প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ও চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়। এর প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থীরা।
পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-৫) মো. মাজহারুল হক। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।
তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় বিষয়টি এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে।
২৪২টি পদের নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে অনিশ্চয়তা
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। এই পদে ২৪২ জন কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য শনিবার বেলা ১১টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার আয়োজন করার পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্ট ও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করে। পরীক্ষা শুরুর আগে অভিযোগটি সামনে আসায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে রাজধানীতে আসা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও এ ঘটনায় হতাশা দেখা দেয়। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
প্রতিবাদে রাজধানীতে চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
চাকরিপ্রার্থীদের মতে, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা।
তবে বিক্ষোভকারীদের সুনির্দিষ্ট দাবি, বিক্ষোভের স্থান ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নতুন পরীক্ষার তারিখ কবে ঘোষণা হবে?
পরীক্ষা স্থগিতের পর চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন তারিখ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাজহারুল হক জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।
নতুন তারিখ ঘোষণার পর পরীক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার সময়সূচি, কেন্দ্র ও অন্যান্য নির্দেশনায় কোনো পরিবর্তন এলে তা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হতে পারে।
তবে নতুন তারিখ ঘোষণার আগে পরীক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অনানুষ্ঠানিক তথ্যের পরিবর্তে অধিদপ্তরের সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা হাজারো চাকরিপ্রার্থীর দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, শ্রম ও প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িত। এ ধরনের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলে শুধু পরীক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশাই তৈরি হয় না, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও সংশয় দেখা দেয়।
এ কারণে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের সত্যতা যাচাই, অভিযোগের উৎস শনাক্ত এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতে পারে।
বিশেষ করে ২৪২টি পদের বিপরীতে আয়োজিত এ নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের আস্থা বজায় রাখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরবর্তী পরীক্ষার সুষ্ঠু আয়োজনের মাধ্যমে এ আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এদিকে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় রয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দিকেই এখন তাদের নজর।
সংবাদটির মূল তথ্য: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২ জন নিয়োগের পরীক্ষা ১০ অক্টোবর বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ও চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।

