খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতায় জেলা শহরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত সিসি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার এবং কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে বিল উত্তোলনসহ নানা গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন মহল।
মূল অভিযোগসমূহ: সিসি ক্যামেরা প্রকল্পের নেপথ্যে যা ঘটেছে
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে এই মেগা প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। খাগড়াছড়ি জেলা শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার প্রকল্প গ্রহণ করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। প্রকল্পটির কাজ করছে নেক্সাস এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়ভাবে কাজটি পরিচালনা করছেন খাগড়াছড়ির ঠিকাদার রাজিব নন্দি।
নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার: উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ও আধুনিক প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা লাগানোর কথা থাকলেও, বাস্তবে অত্যন্ত নিম্নমানের এবং সস্তা ব্র্যান্ডের ক্যামেরা ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে।
কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন: প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোপুরি সমাপ্ত হয়নি, অনেক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ক্যামেরা স্থাপন বা ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়াই হয়নি। অথচ এর মাঝেই সম্পূর্ণ বিল উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অকার্যকর সংযোগ: ইতিমধ্যেই স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলোর একটি বড় অংশই ইন্টারনেট সংযোগ বা কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়ে আছে, যা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ভূমিকাই রাখছে না।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও দুদকের তদন্তের দাবি
শহরের সচেতন নাগরিক ও সাধারণ বাসিন্দাদের মতে, সরকারি অর্থ এভাবে অপচয় এবং হরিলুট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প খাগড়াছড়িবাসীর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু দুর্নীতির কারণে তা ভেস্তে যেতে বসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"নিরাপত্তার নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা এভাবে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবিলম্বে এই প্রকল্পে ব্যবহৃত সরঞ্জামের মান এবং বিল উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখুক এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনুক।"
প্রশাসনের বক্তব্য
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। তিনি রানিং বিল হিসেবে দুই কোটি টাকা উত্তোলনের কথা জানলেও কাজের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
পাহাড়ি এই জেলা শহরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সিসি ক্যামেরা প্রকল্পটি দ্রুত সচল করার পাশাপাশি এর পেছনের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করা জরুরি বলে মনে করছেন খাগড়াছড়ির সর্বস্তরের জনগণ।

