ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

এনবিআরের সাবেক সদস্য শহিদুল ইসলামের সম্পদের রহস্য, বিদেশে অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

এনবিআরের সাবেক সদস্য শহিদুল ইসলামের সম্পদের রহস্য, বিদেশে অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক ও আবগারি বিভাগের সাবেক সদস্য এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরির সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে তিনি নিজ নামে, স্ত্রী, সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই।

বিদেশে অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন

একাধিক সূত্রের দাবি, সম্প্রতি তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বি ও ছোট ছেলেকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় গেছেন। তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এটি চিকিৎসা সফর নয়; সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতেই তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। যদিও স্বাধীনভাবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, তিনি বিদেশে অবস্থান করেও আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্যের অভিযোগ

কাস্টমস ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন সৎ সরকারি কর্মকর্তা চাকরি শেষে বেতন-ভাতা, অবসর সুবিধা ও অন্যান্য বৈধ উৎস মিলিয়ে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলতে পারেন।

অথচ শহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকারও বেশি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

দেশ-বিদেশে সম্পদের বিস্তার

অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি ব্লকে "শেল কবিতা" নামে ১০ তলা একটি ভবনের মালিক তিনি ও তার পরিবার। রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের মতে, জমিসহ ভবনটির বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে।

এছাড়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে—

বাংলামোটরে দুটি আবাসিক ফ্ল্যাট;
শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট ও নিউমার্কেটে বাণিজ্যিক দোকান;
স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বির নামে শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ;
ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত;
ছেলের ব্যবসায় কোটি টাকার বিনিয়োগ।

তবে এসব সম্পদের মালিকানা ও মূল্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিদেশে সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের দাবি, শহিদুল ইসলামের দুই ছেলে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সেখানে তাদের নামে বাড়ি, ব্যবসা ও বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া দুবাইয়ে ব্যবসা এবং হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স নিয়ে অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের ভাইয়ের নামে চট্টগ্রামে সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়া হয় এবং তা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়েছে।

দুদকের অবস্থান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অভিযোগের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান শুরু করা হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য

সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, প্রকাশের আগে শহিদুল ইসলাম বা তার আইনজীবীর বক্তব্য নেওয়া উচিত। তিনি যদি অভিযোগ অস্বীকার করেন, সেটিও একই গুরুত্বে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রয়োজন।

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত যেকোনো সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে আইনের শাসন ও নিরপেক্ষ তদন্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আবার অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম ও আইনি অধিকারও সমানভাবে সুরক্ষিত থাকতে হবে। তাই স্বচ্ছ, স্বাধীন ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তই জনআস্থা প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

দুর্নীতি থেকে আরও পড়ুন

banner
Link copied!