নতুন *Paid Expedite Appointment* কর্মসূচির মাধ্যমে অতিরিক্ত *৭৫০ মার্কিন ডলার* প্রদান করে আবেদনকারীরা দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ পেলেও, এটি কোনোভাবেই ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা দেয় না। সব আবেদনকারীকে পূর্বের মতোই কঠোর নিরাপত্তা যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন অনুযায়ী যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। ফলে এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র দীর্ঘ অপেক্ষার সময় কমিয়ে দ্রুত সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (U.S. Department of State) অ-অভিবাসী (Nonimmigrant Visa) ভিসা আবেদনকারীদের জন্য একটি নতুন *"Paid Expedite Appointment"* পাইলট কর্মসূচি চালু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী *B1/B2 (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসা আবেদনকারীরা* অতিরিক্ত *৭৫০ মার্কিন ডলার* পরিশোধের মাধ্যমে *১০ কর্মদিবসের মধ্যে ভিসা সাক্ষাৎকারের (Interview) তারিখ* পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই কর্মসূচি *৩১ ডিসেম্বর ২০২৬* পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Program) পরিচালিত হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে এমন আবেদনকারীদের দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ প্রদান করা, একই সঙ্গে ভিসা নিরাপত্তা যাচাই ও স্ক্রিনিংয়ের মান অক্ষুণ্ণ রাখা।
# *কাদের জন্য এই সুবিধা?*
এই নতুন সুবিধাটি শুধুমাত্র *B1/B2 (Business/Tourist Visa)* আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য।
তবে আবেদনকারীকে প্রথমে নিয়ম অনুযায়ী *১৮৫ মার্কিন ডলারের MRV (Machine Readable Visa) ফি* পরিশোধ করে একটি সাধারণ সাক্ষাৎকারের তারিখ (Regular Appointment) বুক করতে হবে।
এরপর যদি সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটে Paid Expedite-এর জন্য খালি স্লট থাকে, তাহলে আবেদনকারী অতিরিক্ত *৭৫০ মার্কিন ডলার* প্রদান করে দ্রুত সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্বাচন করতে পারবেন।
# *কীভাবে আবেদন করবেন?*
পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীকে প্রথমে সাধারণ ভিসা আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর নিজের ভিসা অ্যাকাউন্টে লগইন করে *"Continue"* অপশনে ক্লিক করতে হবে।
সেখান থেকে *"Request Expedite"* নির্বাচন করলে যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য *"Paid Expedite"* অপশন প্রদর্শিত হবে। আবেদনকারী দ্রুত সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্বাচন করার পর *১০ মিনিটের মধ্যে ৭৫০ মার্কিন ডলার পরিশোধ* করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ প্রদান না করলে সেই সাক্ষাৎকারের স্লট বাতিল হয়ে যাবে।
# *ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়*
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, *Paid Expedite* শুধুমাত্র দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেয়।
এই অতিরিক্ত ফি প্রদান করলেও—
* ভিসা অনুমোদনের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
* নিরাপত্তা যাচাই বা ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন কমানো হবে না।
* কনস্যুলার অফিসার একই নিয়মে আবেদন মূল্যায়ন করবেন।
অর্থাৎ, দ্রুত সাক্ষাৎকার পেলেও ভিসা পাওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আবেদনকারীর যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে।
# *ফি ফেরত পাওয়া যাবে না*
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, *৭৫০ মার্কিন ডলারের Paid Expedite Fee সম্পূর্ণভাবে Non-refundable এবং Non-transferable।*
একবার অর্থ পরিশোধ করার পর—
* সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তন (Reschedule) করা যাবে না।
* সাক্ষাৎকারে উপস্থিত না হলে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না।
* পুনরায় Paid Expedite সুবিধা নিতে চাইলে আবার নতুন করে ফি পরিশোধ করতে হবে।
# *গ্রুপ আবেদনকারীদের জন্য আলাদা নিয়ম*
যারা একসঙ্গে পরিবার বা গ্রুপ হিসেবে আবেদন করবেন, তাদের প্রত্যেক সদস্যকে পৃথকভাবে *৭৫০ মার্কিন ডলার* প্রদান করতে হবে।
তবে প্রয়োজনে গ্রুপের কিছু সদস্য Paid Expedite সুবিধা নিতে পারবেন এবং অন্য সদস্যরা সাধারণ সাক্ষাৎকারের তারিখ বজায় রাখতে পারবেন।
# *Emergency Appointment না পেলেও সুযোগ থাকবে*
যেসব আবেদনকারীর *Emergency Appointment* আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তারাও যোগ্য হলে Paid Expedite সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।
অন্যদিকে, যারা *Interview Waiver* (সাক্ষাৎকার ছাড়া ভিসা নবায়ন) প্রক্রিয়ার আওতায় পড়েন, তারা এই অতিরিক্ত ফি দিয়ে দ্রুত প্রসেসিংয়ের সুবিধা পাবেন না।
# *বর্তমানে কোথায় চালু হয়েছে?*
পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই পাইলট কর্মসূচি বর্তমানে শুধুমাত্র *মেক্সিকোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং সব কনস্যুলেটে* চালু হয়েছে।
* *কার্যক্রম শুরুর তারিখ:* *২১ জুলাই ২০২৬*
তবে ভবিষ্যতে বিশ্বের আরও বিভিন্ন দেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
# *বাংলাদেশে কি এই সুবিধা চালু হয়েছে?*
বর্তমান ঘোষণায় *বাংলাদেশের নাম নেই।* অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে *Paid Expedite Appointment Pilot Program* চালু হয়নি।
তবে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক এই কর্মসূচির সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনে আরও নতুন দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

