ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

স্বপ্নভঙ্গের পর দেশে ফেরা: যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট হয়ে ফিরলেন আরও ২৩ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম

স্বপ্নভঙ্গের পর দেশে ফেরা: যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট হয়ে ফিরলেন আরও ২৩ বাংলাদেশি

শাহজালাল_বিমানবন্দর

অবৈধ অভিবাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে ওমনি এয়ারের (Omni Air) একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তারা স্বজনদের কাছে ফিরে যান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে ফেরত আসা এসব বাংলাদেশি বিভিন্ন সময়ে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিলেন। প্রথমে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও পেরুসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন। পরে সুযোগের সন্ধানে বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও দেশটির বৈধ অভিবাসন নীতিমালা ও আইনি শর্ত পূরণ করতে পারেননি। একপর্যায়ে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করে এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিশেষ ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাদের অভ্যর্থনা জানায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে প্রত্যেক ফেরত আসা নাগরিককে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া তাদের জন্য হালকা খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়।

ইমিগ্রেশন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ করে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দেশে ফিরে আসা এসব ব্যক্তিকে পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নত জীবনের আশায় অনেক বাংলাদেশি দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অনেকেই গ্রেপ্তার, কারাবাস কিংবা শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

 বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অবশ্যই বৈধ ভিসা, অনুমোদিত নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন আইন মেনে চলা উচিত। অন্যথায় শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনা বাড়ছে।
 

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!