শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি একটি জাতির মনন, মূল্যবোধ ও সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি। মানুষের সহজাত সৃজনশীলতা থেকেই শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটলেও পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এ চর্চা আজ নানা সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে নতুন লেখক, কবি ও শিল্পীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ এবং আর্থিক সহায়তার অভাব তাদের সৃজনশীল বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিল্প-সাহিত্য কেবল বিনোদনের বিষয় নয়; এটি একটি জাতির চিন্তা, চেতনা ও মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, দার্শনিক প্লেটো, আল্লামা ইউসুফ আল-কারযাভী, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও টি. এস. ইলিয়টসহ বিভিন্ন মনীষী শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে লেখক ও সাহিত্যিকদের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ লেখকই লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন না। পর্যাপ্ত পাঠক, প্রকাশনা সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেক প্রতিভা বিকাশের সুযোগ হারাচ্ছে।
লেখক দাবি করেন, বইমেলার কার্যক্রম শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তরুণ লেখকদের উৎসাহিত করা, বই কেনার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং সাহিত্যচর্চার জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ইতিহাসে মুসলিম শাসকরা বাংলা সাহিত্য বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়েছে। বর্তমান সময়েও সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে রাষ্ট্র, সমাজ এবং বিত্তবানদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
লেখকের মতে, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা ছাড়া একটি সুস্থ, মানবিক ও সভ্য সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই গুণীজনদের যথাযথ মূল্যায়ন, লেখক-শিল্পীদের আর্থিক সহায়তা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার বিস্তারে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

