ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

আফতাবগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর, দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তি

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

আফতাবগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর, দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তি

ছবিঃ সংগৃহীত

দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আফতাবগঞ্জ অফিসে এলাকাবাসীর ভাঙচুরের ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আফতাবগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ক্ষোভের জেরে একপর্যায়ে এলাকাবাসীর একটি অংশ আফতাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে ভাঙচুর চালায়। এ সময় অফিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত উপকেন্দ্র সচল করতে সময় লাগতে পারে

ভাঙচুরের পর ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মেরামত ও প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল টিম। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় পুরো উপকেন্দ্র স্বাভাবিকভাবে চালু করতে সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

টেকনিক্যাল টিমের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, উপকেন্দ্রের সব যন্ত্রাংশ সচল করে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে আরও প্রায় পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। তবে কাজের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পাওয়ার ওপর প্রকৃত সময় নির্ভর করবে।

‘উৎসাহ ভালো, অতি উৎসাহ নয়’

বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের ক্ষোভ ও দাবি থাকতেই পারে। কিন্তু সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর কিংবা গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট করার পরিণতি শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই ভোগ করতে হয়।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো, স্মারকলিপি দেওয়া কিংবা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা যেতে পারে। কিন্তু সরকারি বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ভাঙচুর কোনোভাবেই সমস্যার সমাধান নয়।

তাদের ভাষায়, ‘উৎসাহিত হওয়া ভালো, কিন্তু অতি উৎসাহী হওয়া ভালো নয়।’ কারণ বিদ্যুৎ অফিসের যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে ক্ষতি শুধু সরকারি সম্পদের হয় না—এর সরাসরি প্রভাব পড়ে হাজারো গ্রাহকের ওপর।

ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বাসাবাড়িতে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র শিল্প ও বিভিন্ন জরুরি সেবাতেও এর প্রভাব পড়ছে।

বিশেষ করে দীর্ঘ পাঁচ দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ক্ষোভ থেকে যদি বিদ্যুৎ অফিসের যন্ত্রাংশই নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেই ক্ষতির দায় শেষ পর্যন্ত কার? বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় যে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে, তার দায়ও কি সাধারণ গ্রাহকদেরই বহন করতে হবে?

দ্রুত মেরামতের দাবি

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ মেরামত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করারও দাবি উঠেছে।

পাশাপাশি সরকারি সম্পদে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, দাবি আদায়ের নামে সরকারি অবকাঠামো ধ্বংস করা হলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো এলাকার মানুষ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!