দ্রুত গরু মোটাতাজা করে বেশি লাভের আশায় ইউরিয়া সার খাওয়ানোর পর জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে একটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুটি গরু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি গরু জবাই করা হয়েছে এবং অপরটিকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেছেন স্থানীয় ভেটেরিনারি চিকিৎসক।
মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে) উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের রায়পুর মণ্ডলপাড়া গ্রামে খামারি জাহিদ হাসানের খামারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় গরু মোটাতাজাকরণে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুর মণ্ডলপাড়া গ্রামের আসমান হোসেনের ছেলে জাহিদ হাসান দীর্ঘদিন ধরে গরু পালন করে আসছেন। এবার দ্রুত গরু মোটাতাজা করে বেশি দামে বিক্রির আশায় তিনি তাঁর খামারের তিনটি বাছুরকে ইউরিয়া সার খাওয়ান বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইউরিয়া সার খাওয়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনটি গরুই অসুস্থ হয়ে পড়ে। গরুগুলোর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে একটি গরু মারা যায়। অপর দুটি গরুর অবস্থাও গুরুতর হয়ে পড়লে একটি জবাই করা হয়। অন্য গরুটিকে চিকিৎসা দেওয়ার পর বর্তমানে সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।
‘দ্রুত মোটাতাজা করার’ ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি
স্থানীয়দের ভাষ্য, গরু দ্রুত মোটাতাজা করার জন্য অনেক সময় কিছু খামারি প্রচলিত খাদ্যের বাইরে বিভিন্ন অনিরাপদ উপাদান ব্যবহারের চেষ্টা করেন। ইউরিয়া সার গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রা, মিশ্রণ ও ব্যবস্থাপনা না থাকলে তা মারাত্মক বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
পাঁচবিবির এ ঘটনায়ও অতিরিক্ত ইউরিয়া গ্রহণের পর গরুগুলোর অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে গরুগুলোর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা জরুরি।
ইউপি সদস্যের মন্তব্য
ধরঞ্জী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, “বেশি লোভ করলে যা হয়, তাই হয়েছে।”
তিনি জানান, গরু দ্রুত মোটাতাজা করে বেশি লাভের আশায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি গ্রহণ না করে খামারিদের সতর্ক থাকা উচিত।
অসুস্থ গরু জবাই নিয়েও উদ্বেগ
ঘটনার পর অসুস্থ একটি গরু জবাই করার বিষয়টিও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ অসুস্থ পশু জবাই করে তার মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পাঁচবিবি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাসান আলী বলেন, “অসুস্থ যেকোনো পশুর মাংসই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। অসুস্থ গরু জবাই করা ঠিক হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, গরুকে মোটাতাজা করার জন্য ইউরিয়া সার খাওয়ানো ঝুঁকিপূর্ণ। ভুলভাবে বা অতিরিক্ত ইউরিয়া খাওয়ালে পশুর শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি হয়ে মৃত্যুও ঘটতে পারে। একই সঙ্গে অসুস্থ পশুর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টিও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা খামারিদের গরু মোটাতাজাকরণে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ পদ্ধতি পরিহার করে বৈজ্ঞানিক ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা অনুসরণের আহ্বান জানান।
সচেতনতার বিকল্প নেই
খামারিরা অধিক লাভের আশায় গরুর দ্রুত ওজন বাড়ানোর জন্য অননুমোদিত বা ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করলে একদিকে যেমন পশুর মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে অসুস্থ পশুর মাংস মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করলে জনস্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
পাঁচবিবির এ ঘটনায় একটি গরুর মৃত্যু এবং আরও দুটি গরুর অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি খামারিদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। গরু মোটাতাজাকরণে স্বল্প সময়ে বেশি লাভের পরিবর্তে নিরাপদ খাদ্য, সঠিক পরিচর্যা এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসরণ করাই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও নিরাপদ পথ বলে মনে করছেন তারা।

