বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন আজ। ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট জন্ম নেওয়া কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মাত্র ৪৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ায় মারা যান।
জন্মদিন উপলক্ষে আজ রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
এ ছাড়া কোকোর স্মরণে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা তার জীবন, ক্রীড়াঙ্গনে অবদান এবং পরিবারের প্রতি তার দায়িত্বশীল ভূমিকা স্মরণ করে বক্তব্য রাখবেন।
প্রচারের আড়ালে থাকা এক স্বভাবসুলভ মানুষ
রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন অনেকটাই প্রচারবিমুখ ও অন্তর্মুখী স্বভাবের। বাবা শহিদ জিয়াউর রহমান দেশের রাষ্ট্রপতি এবং মা খালেদা জিয়া দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেত্রী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তিনি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রাজনীতির সক্রিয় নেতৃত্বের চেয়ে নিজের পছন্দের ক্ষেত্রেই বেশি মনোযোগী ছিলেন।
পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে কোকোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সম্পৃক্ততা ছিল বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে। বিশেষ করে ক্রিকেটের উন্নয়ন ও সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি ক্রীড়াঙ্গনে আলোচিত।
ক্রিকেটে সম্পৃক্ততা
২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত আরাফাত রহমান কোকো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই সময়ে দেশের ক্রিকেটের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা ছিল।
বিএনপির নেতাকর্মী ও তার ঘনিষ্ঠদের মতে, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন নিয়ে কোকোর আগ্রহ ছিল দীর্ঘদিনের। রাজনীতির বাইরে ক্রীড়া ছিল তার অন্যতম আগ্রহের জায়গা। ক্রিকেটের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো ও তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার বিষয়েও তিনি আগ্রহী ছিলেন বলে তারা উল্লেখ করেন।
পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান
আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার দুই ছেলের মধ্যে ছোট। তার বড় ভাই তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
কোকোর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবারের পরিবেশে। বাবার রাজনৈতিক জীবন, দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতি এবং পরবর্তী সময়ে মায়ের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনৈতিক উত্থান—সবকিছুর মধ্যেই তিনি বেড়ে ওঠেন।
তবে পরিবারের রাজনৈতিক পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সামনের সারি থেকে অনেকটাই দূরে রেখেছিলেন।
অকালমৃত্যুতে শোকের ছায়া
২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো। তার মৃত্যুর সংবাদে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরে তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তার মৃত্যুর পর থেকেই প্রতিবছর জন্মদিন ও মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে স্মরণ করে আসছেন।
জন্মদিনে স্মরণ কোকোকে
৫৭তম জন্মদিনেও সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে আরাফাত রহমান কোকো শুধু সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সন্তান নন; তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের একজন সদস্য এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন সংগঠক হিসেবেও স্মরণীয়।
তার জন্মদিনে বিএনপি নেতাকর্মীরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন।

