ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

১৭ বছরের মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতায় স্থবির রাজধানী; আরও পাঁচ দিন ভারী বর্ষণের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

১৭ বছরের মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতায় স্থবির রাজধানী; আরও পাঁচ দিন ভারী বর্ষণের আশঙ্কা

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীতে গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণে রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি তলিয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী পাঁচ দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি ১২ জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ একে এম নাজমুল হক জানান, ২০০৯ সালের পর রাজধানীতে এটাই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ২০০৯ সালের বর্ষায় একদিনে সর্বোচ্চ ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

তিনি বলেন, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় এ ধরনের ভারী বর্ষণ হচ্ছে, যা বর্ষাকালে স্বাভাবিক হলেও এবার এর তীব্রতা বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতও হয়েছে ঢাকায়।

এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৬০ মিলিমিটার, আমবাগানে ১৪০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১১৩ মিলিমিটার এবং ফরিদপুরে ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আগামী পাঁচ দিনও থাকবে বৃষ্টির দাপট

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

১২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।

১৩ জুলাইও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৪ জুলাই থেকে কিছু এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমলেও রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে। ১৫ ও ১৬ জুলাই খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে আবারও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

১২ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা

ভারী বর্ষণের কারণে দেশের অন্তত ১২ জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বর্তমানে সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্টে, কুশিয়ারা নদী মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জে এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আগামী দুই দিনের মধ্যে ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী, এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু ও খোয়াই নদীসংলগ্ন কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, প্রাণহানি ৫১

সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ইতোমধ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশ বর্তমানে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু মাঝারি অবস্থায় সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!