বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে গণরায়কে উপহাস করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদের একটি দফাও বাস্তবায়ন করা হলে বিরোধী দল আপাতত আন্দোলনে যাবে না। তবে জনগণের রায় উপেক্ষা করা হলে তা প্রতিহত করতে দেশবাসীকে আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সাত দফা দাবিতে খুলনা থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের আগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জনগণের প্রত্যাশা ও গণরায়ের প্রতিফলন ঘটানোর পরিবর্তে বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে টালবাহানা করছে। এতে জনগণের মতামত ও আকাঙ্ক্ষাকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের আমির বলেন, জুলাই সনদের অন্তত একটি দফা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিরোধী দল আপাতত আন্দোলনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু গণরায়কে উপেক্ষা করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে লংমার্চ
সাত দফা দাবি সামনে রেখে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে খুলনা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, গণরায়ের প্রতিফলন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিগুলোকে সামনে আনতেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
লংমার্চের আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা তাঁদের দাবির পক্ষে বক্তব্য দেন। তাঁদের বক্তব্যে রাজনৈতিক সংস্কার, জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান এবং জুলাই-পরবর্তী পরিবর্তনের প্রত্যাশা গুরুত্ব পায়।
সংবিধান সংস্কার না করায় সংকট: মামুনুল হক
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, দেশে বিভিন্ন ধরনের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পেছনে সংবিধান সংস্কার না করার বিষয়টি দায়ী।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান কঠিন হবে। জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই বিপ্লবের প্রত্যাশিত সুফল ঘরে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের ইঙ্গিত
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণরায়ের প্রতিফলন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বক্তব্যে এ বিষয়ে চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও আলোচনার অগ্রগতি আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

