ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

কারাগারে বাড়ছে বন্দি মৃত্যু: চিকিৎসক-অ্যাম্বুলেন্স সংকটে সময়মতো মিলছে না জরুরি চিকিৎসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

কারাগারে বাড়ছে বন্দি মৃত্যু: চিকিৎসক-অ্যাম্বুলেন্স সংকটে সময়মতো মিলছে না জরুরি চিকিৎসা

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনা। চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার সংকটের কারণে গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের দাবি, বিশেষ করে রাতের বেলায় চিকিৎসকের অনুপস্থিতি হৃদরোগ, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্টসহ জরুরি রোগীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৬১ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৪২। অন্যদিকে কারা অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৮৬ জন এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১৯৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে দুই প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যানে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

কারা অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশের কারাগারগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১৪৬টি হলেও অধিকাংশ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে ডিপ্লোমা নার্সেরও বড় সংকট রয়েছে। এছাড়া দেশের ৬৮টি কারাগারের বিপরীতে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ২৩টি। ফলে জরুরি রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, কারাগারে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক সংকট চলছে। রাতের বেলায় জরুরি চিকিৎসা প্রায় অপ্রতুল থাকায় গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসায় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতির অভিযোগও রয়েছে। তিনি কারাবিধি সংস্কার, কারা হাসপাতালের আধুনিকায়ন, ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক উপস্থিতি এবং দ্রুত রোগী স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানিয়েছেন, সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও নার্স সংকট কাটাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। সম্প্রতি সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ পেয়েছেন, যা কারা চিকিৎসাসেবায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কারা অধিদফতরের ২৩টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও আরও ৪৪টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো যুক্ত হলে জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, শুধু নতুন অ্যাম্বুলেন্স বা নার্স নিয়োগই যথেষ্ট নয়। বন্দি মৃত্যুর হার কমাতে কারা হাসপাতালগুলোতে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, জরুরি রোগী স্থানান্তরের নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং গ্রেফতারের পর বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!