১০০ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশ প্রাইজবন্ডের ১২৫তম ড্র অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার (১ নভেম্বর)। এ ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার বিজয়ী পাবেন ৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ টাকা, চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা এবং পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার প্রাইজবন্ড চালু করেছে। সঞ্চয়ের পাশাপাশি ড্রয়ের মাধ্যমে পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকায় অনেকের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় সঞ্চয়মাধ্যম। এর অন্যতম সুবিধা হলো, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রাইজবন্ড কেনা ও ভাঙানো যায়।
প্রাইজবন্ডের ড্রয়ে কত টাকা পুরস্কার পাওয়া যাবে?
১০০ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশ প্রাইজবন্ডের ১২৫তম ড্রয়ে পাঁচটি শ্রেণিতে পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ হলো—
প্রথম পুরস্কার: ৬ লাখ টাকা
দ্বিতীয় পুরস্কার: ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা
তৃতীয় পুরস্কার: ১ লাখ টাকা
চতুর্থ পুরস্কার: ৫০ হাজার টাকা
পঞ্চম পুরস্কার: ১০ হাজার টাকা
প্রাইজবন্ডের ড্রয়ে ঘোষিত পুরস্কার বিজয়ী নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে বন্ডের নম্বর যাচাই করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ঘোষিত নম্বরের প্রতিটি সিরিজের প্রাইজবন্ড একই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হয়। ফলে শুধু নম্বরের পাশাপাশি বন্ডের সিরিজও মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
কোন প্রাইজবন্ড ১২৫তম ড্রয়ের আওতায় আসবে?
নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, ড্রয়ের তারিখের অন্তত ৬০ দিন আগে বিক্রি হওয়া প্রাইজবন্ড ওই ড্রয়ের আওতাভুক্ত হয়। এ ক্ষেত্রে বিক্রির তারিখ গণনায় ধরা হয়, তবে ড্রয়ের তারিখ বাদ দেওয়া হয়।
তাই ১২৫তম ড্রয়ে কোনো প্রাইজবন্ড পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে কি না, তা জানতে বন্ড কেনার তারিখ ও প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। ড্রয়ের ফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট নম্বর ও সিরিজ মিলিয়ে পুরস্কার জিতেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থ থেকে কত কর কাটা হবে?
প্রাইজবন্ডে পুরস্কার জিতলে ঘোষিত অর্থের পুরোটা হাতে পাওয়া যায় না। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১১৮ ধারার নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরস্কারের অর্থ থেকে ২৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান রয়েছে।
অর্থাৎ, পুরস্কারের ঘোষিত অঙ্ক থেকে প্রযোজ্য হারে কর কেটে অবশিষ্ট অর্থ বিজয়ীকে দেওয়া হবে। উদাহরণ হিসেবে, প্রথম পুরস্কারের ৬ লাখ টাকা থেকে ২৫ শতাংশ বা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা কর কাটা হলে বিজয়ীর প্রাপ্য থাকবে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
একইভাবে অন্যান্য পুরস্কারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কর কর্তনের পর অবশিষ্ট অর্থ পাওয়া যাবে।
বছরে চারবার অনুষ্ঠিত হয় প্রাইজবন্ডের ড্র
নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রাইজবন্ডের ড্র সাধারণত বছরে চারবার অনুষ্ঠিত হয়। ড্রয়ের নির্ধারিত তারিখগুলো হলো ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর।
তবে নির্ধারিত তারিখে সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী, এবারের ১২৫তম ড্র ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
কীভাবে প্রাইজবন্ডের ফলাফল যাচাই করবেন?
ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রকাশিত বিজয়ী নম্বরের তালিকার সঙ্গে নিজের প্রাইজবন্ডের নম্বর ও সিরিজ মিলিয়ে ফলাফল যাচাই করতে হবে। পুরস্কার জিতেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ফলাফল অনুসরণ করা জরুরি।
প্রাইজবন্ডের পুরস্কার দাবি করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম, সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দাবি জমা দিতে হবে।

