ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

বৃষ্টি উপভোগ করুন, তবে খাবারে থাকুন সতর্ক—বর্ষায় যেসব খাবার হতে পারে বিষ

দৈনিক আজ ও আগামীকাল ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

বৃষ্টি উপভোগ করুন, তবে খাবারে থাকুন সতর্ক—বর্ষায় যেসব খাবার হতে পারে বিষ

ছবিঃ সংগৃহীত

বর্ষাকাল মানেই প্রকৃতির সজীবতা, টানা বৃষ্টি, এক কাপ গরম চা আর মুচমুচে ভাজাপোড়ার প্রতি অদম্য আকর্ষণ। তবে এই মনোরম আবহাওয়ার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে খাদ্যজনিত রোগ, ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এ এবং বিভিন্ন ধরনের পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি বর্ষাকালে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাকের দ্রুত বংশবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে অনুকূল। ফলে খাবার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

কেন বর্ষাকালে খাবার বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?

বর্ষার সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এই অতিরিক্ত আর্দ্রতা খাদ্যের মধ্যে ক্ষতিকর অণুজীবের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করে। বিশেষ করে রান্না করা খাবার, ফল, শাকসবজি, দুধজাত পণ্য এবং সামুদ্রিক খাদ্য খুব দ্রুত দূষিত হতে পারে।

ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি (FSSAI)-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্ষাকালে উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণুর বৃদ্ধি বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে খাবার সংরক্ষণে সামান্য ত্রুটিও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় খাবার অবশ্যই তাজা অবস্থায় খেতে হবে এবং দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া খাবার এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

যেসব খাবার বর্ষাকালে যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলবেন
খোলা ও অস্বাস্থ্যকর রাস্তার খাবার

বর্ষাকালে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাবারের তালিকায় রয়েছে রাস্তার পাশে খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি, ভাজাপোড়া কিংবা অন্যান্য স্ট্রিট ফুড।

বৃষ্টির পানি, ধুলাবালি, মাছি এবং দূষিত পরিবেশের কারণে এসব খাবারে সহজেই জীবাণু জন্মায়। বিশেষ করে অপরিষ্কার পানি ব্যবহার করলে ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

কাটা ফল ও বাইরে বিক্রি হওয়া সালাদ

আগেই কেটে রাখা ফল বা সালাদ বর্ষাকালে না খাওয়াই ভালো। অনেক সময় এগুলো অপরিষ্কার পানি দিয়ে ধোয়া হয় কিংবা দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখা হয়।

এসব খাবারে সহজেই ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা পেটের সংক্রমণের অন্যতম কারণ।

শাকসবজি

সবুজ শাক-সবজি বর্ষায় মাটি, কাদা, পোকামাকড় ও পরজীবী জীবাণু দ্বারা সহজেই দূষিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে পর্যাপ্ত তাপে রান্না করেই খাওয়া উচিত। কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ অবস্থায় খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বাসি সামুদ্রিক মাছ ও চিংড়ি

মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া কিংবা অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

যদি এসব খাবার একেবারে টাটকা না হয় অথবা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হয়, তাহলে তা মারাত্মক ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে।

দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা রান্না করা খাবার

রান্না করা খাবার কয়েক ঘণ্টা ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে তাতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে শুরু করে।

বর্ষাকালে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ঘটে। তাই দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা খাবার পুনরায় গরম করলেও সবসময় নিরাপদ নাও হতে পারে।

অপাস্তুরিত দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার

ফোটানো হয়নি এমন দুধ কিংবা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা দই, পনির, মিষ্টি ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবারে জীবাণু দ্রুত জন্মাতে পারে।

এ কারণে বর্ষাকালে এসব খাবার অবশ্যই নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্ষায় নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়তে যা করবেন

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে কিছু সাধারণ অভ্যাস অনুসরণ করলে খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সবসময় টাটকা ও গরম খাবার খান।
ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন।
ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে রাখবেন না।
ফ্রিজ নিয়মিত পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।
খাবার ঢেকে সংরক্ষণ করুন।
বাইরে খেলে পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বস্ত রেস্টুরেন্ট বেছে নিন।
সচেতন থাকলেই নিরাপদ থাকা সম্ভব

বর্ষাকাল উপভোগ করতে হলে খাবারের বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা জরুরি। সুস্বাদু খাবারের লোভে স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনার কোনো অর্থ নেই। সামান্য সচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসই বর্ষাকালে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে খাদ্যজনিত নানা রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!