ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

menu

ইসলামাবাদের হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ১৪ নবজাতকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১১:১৬ এএম

ইসলামাবাদের হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ১৪ নবজাতকের

ছবিঃ সংগৃহীত

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওয়ার্ডটিতে ১৫ নবজাতক ছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একজনকে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।

ইসলামাবাদ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে ওয়ার্ডে থাকা নবজাতকদের নিরাপদে সরিয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। তবে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে ১৪ নবজাতককে বাঁচানো যায়নি।

শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সন্দেহ

পিআইএমএসের মুখপাত্র ডা. আনিজা জলিল জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় নার্সারি ওয়ার্ডে মোট ১৫ নবজাতক ছিল। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি জানান, আগুনের মধ্যে একজন নবজাতককে একজন চিকিৎসক ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

সংস্কারকাজ চলছিল ভবনে

হাসপাতালে ভর্তি এক নারীর স্বজন মালিক ইসরার অভিযোগ করে বলেন, যে ভবনে নার্সারি ওয়ার্ডটি ছিল, সেখানে সংস্কার ও মেরামতের কাজ চলছিল। এমন একটি ভবনে নবজাতকদের রাখা নিরাপত্তার দিক থেকে কতটা উপযুক্ত ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী ও স্বজনদের দ্রুত ভবন থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এ সময় সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদেরও দ্বিতীয় তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামিয়ে আনা হয়।

তদন্ত কমিটি গঠন

ঘটনার কারণ ও হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ইসলামাবাদ প্রশাসন। অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার জেনারেলের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, উদ্ধার কার্যক্রম এবং হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের কথা জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএস

১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) ইসলামাবাদের অন্যতম প্রধান সরকারি হাসপাতাল। রাজধানীর সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে এখানে চিকিৎসার পাশাপাশি বিভিন্ন চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

নবজাতক ও প্রসূতি বিভাগের মতো স্পর্শকাতর ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক অবকাঠামো এবং সংস্কারকাজের সময় রোগী রাখার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে এসব বিষয়ে কোনো অনিয়ম বা অবহেলা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!