সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলা ও নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের প্রভাবে ঢাকা থেকে সৌদিগামী মোট ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৩৬টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৫০টি। এতে অন্তত ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের নির্ধারিত ভ্রমণসূচি ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি, কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়া কর্মী এবং জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক যাত্রীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বেবিচকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী একাধিক দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। ফলে ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের পাশাপাশি ট্রানজিটের মাধ্যমে গন্তব্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও ভ্রমণ জটিলতায় পড়েছেন।
সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করেছে যেসব এয়ারলাইনস
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী বাতিল হওয়া ৩৬টি সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের পাঁচটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।
দেশি-বিদেশি এসব এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সৌদি আরবে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। যাঁদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, পরিবারের সদস্যদের কাছে যাওয়া কিংবা জরুরি কাজে সৌদি আরবে পৌঁছানোর কথা ছিল, তাঁদের অনেকেই নতুন ফ্লাইটের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল ৫০টি
সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ২২টি, সালামএয়ারের চারটি, ইজিপ্টএয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি ফ্লাইট রয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তৃতীয় কোনো দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও বিপাকে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচলে এমন বিঘ্ন ঘটলে সংযোগকারী ফ্লাইট, যাত্রার সময়সূচি এবং পরবর্তী গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত
এদিকে সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এ সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ে দাম্মাম ও রিয়াদে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের ভ্রমণসূচি নতুন করে সমন্বয় করতে হতে পারে। ফ্লাইট স্থগিত থাকায় যাত্রীদের টিকিটের মেয়াদ, পরবর্তী ফ্লাইটের সময়সূচি এবং যাত্রা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
তবে ১৭ অক্টোবরের পর ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
ভোগান্তিতে প্রবাসী ও অন্যান্য যাত্রী
সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের অনেকে ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে কিংবা নতুন কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যেতে নিয়মিত বিমানপথ ব্যবহার করেন। ফলে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা প্রবাসী কর্মীদের জন্য বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়া ওমরাহ পালন, পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াত এবং ব্যবসায়িক কাজে সৌদি আরবগামী যাত্রীরাও ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে সমস্যায় পড়তে পারেন। তবে বাতিল হওয়া ৮৬টি ফ্লাইটের মধ্যে কোন শ্রেণির কতজন যাত্রী রয়েছেন, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
যাত্রীদের করণীয়
ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিতের কারণে যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। টিকিট পুনর্নির্ধারণ, বিকল্প ফ্লাইট, অর্থ ফেরত কিংবা অন্যান্য সুবিধার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নির্দেশনা জেনে নেওয়াও জরুরি।
একই সঙ্গে বেবিচক ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা উচিত। পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইটের সময়সূচি ও পরিচালনাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তও পরিবর্তিত হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলা ও নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের প্রভাবে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৬টি ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে সৃষ্ট অস্থিরতারই প্রতিফলন। এতে ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ফ্লাইট-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

