চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর সারা দেশে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।
শুধু পাসের হার নয়, এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি বছর মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে নিজ নিজ বোর্ডের ফলাফল হস্তান্তর করেন।
এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। পরে ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী।
ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে শুরু হয়েছে ফলাফল দেখা এবং পরবর্তী শিক্ষাজীবন নিয়ে পরিকল্পনার প্রস্তুতি। বিশেষ করে যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের সামনে এখন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতি নেওয়ার পালা। আর কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন।
যেভাবে এসএসসি ও সমমানের ফল জানা যাবে
শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবে।
ওয়েবসাইটে ফলাফল
শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফল জানা যাবে—
https://eduboardresults.gov.bd
এ ছাড়া—
https://educationboardresults.gov.bd
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেও ফলাফল দেখা যাবে।
ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রথমে Examination অপশন থেকে SSC/Dakhil নির্বাচন করতে হবে। এরপর পরীক্ষার Year নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বেছে নিতে হবে। তারপর পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে।
সবশেষে প্রদর্শিত ক্যাপচা পূরণ করে Submit বাটনে ক্লিক করলেই ফলাফল দেখা যাবে।
এসএমএসে ফল জানার পদ্ধতি
অনলাইনের পাশাপাশি মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমেও এসএসসি পরীক্ষার ফল জানা যাবে।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে—
SSC <বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর> <রোল নম্বর> <পরীক্ষার বছর>
এরপর এসএমএসটি পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।
উদাহরণ:
SSC DHA 123456 2026
এই এসএমএসটি পাঠাতে হবে 16140 নম্বরে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরতি এসএমএসে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
কারিগরি বোর্ডের ফল
এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীরা এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে লিখবে—
SSC TEC 123456 2026
এটি পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।
দাখিল পরীক্ষার ফল
দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফলাফলও সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে এসএমএস ও অনলাইন পদ্ধতিতে জানা যাবে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রিরেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলও অনলাইনে
শুধু ব্যক্তিগত ফল নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল শিটও অনলাইনে সংগ্রহ করা যাবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের Result Corner-এ গিয়ে প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফলাফল শিট ডাউনলোড করা যাবে।
শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ডের কার্যালয় বা পত্রিকা অফিস থেকে পৃথকভাবে ফলাফল সরবরাহ করা হবে না।
কমেছে পাসের হার, কমেছে জিপিএ-৫
চলতি বছরের ফলাফলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুটিই কমে যাওয়া।
গত বছর যেখানে গড় পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ, এবার তা নেমে এসেছে ৬২.২৫ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরে পাসের হার কমেছে ৬.২০ শতাংশ।
অন্যদিকে গত বছর ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ফলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
ফলাফলের এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি, প্রশ্নের ধরন এবং শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক চিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
ফলাফল নিয়ে পরবর্তী করণীয়
ফল প্রকাশের পর যেসব শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি, তাদের জন্য শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ থাকবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।
অন্যদিকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এখন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে হবে। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম ফল করা শিক্ষার্থীদের জন্যও পরবর্তী শিক্ষাজীবনের বিষয় ও প্রতিষ্ঠান নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
চলতি বছরের ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ায় শিক্ষা খাতের মান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ফলাফলের পরিসংখ্যান নয়—কোন পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে, তার কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

