জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর কাফরুল থানাধীন এলাকায় সংঘটিত মাহবুব হাসান মামুন হত্যা মামলায় সাবেক সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
এর আগে, গত ৯ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল আলীম আদালতে এন এম জিয়াউল আলমকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য
আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনার সঙ্গে এন এম জিয়াউল আলমের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। এছাড়া তদন্তের অগ্রগতির প্রয়োজনে পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যেভাবে নিহত হন মাহবুব হাসান
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ের সামনে চলমান আন্দোলনে অংশ নেন মাহবুব হাসান (৩৪)। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৬১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তদন্ত অব্যাহত
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রত্যেকেই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।

