বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। রাজধানীর উত্তরায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং পরদিন তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাপ্রবাহে এখনো বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় শেষ সময়ে তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ এবং পরিচিত তরুণী জেরিকা তাসনিম দিশাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা তাঁদের বক্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের কললিস্ট ও যোগাযোগের তথ্য পর্যালোচনা করছেন।
পুলিশের ভাষ্য, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দীপের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কীভাবে তিনি তুরাগ নদে পৌঁছালেন এবং এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, পরিবারের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে।
যেভাবে শুরু হয় রহস্যের
ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ ও ২৮ অক্টোবর। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ২৮ বছর বয়সী সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি রাজধানীর উত্তরায় নিজের বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। পরিবারের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে দেখা করতে তিনি বাসার নিচে নেমেছিলেন।
এরপর রাতের বিভিন্ন সময়ে তাঁকে দীপ ও পরিচিত তরুণী জেরিকা তাসনিম দিশার সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু রাতের শেষ ভাগে কী ঘটেছিল, কীভাবে তাহসিফ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় গেলেন এবং শেষ পর্যন্ত তুরাগ নদে তাঁর মৃত্যু হলো—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
২৮ অক্টোবর বিকেল পৌনে ৬টার দিকে নৌ পুলিশ তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর পরিবার ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
শেষ রাতের গতিবিধি: সিসিটিভি ফুটেজে যা পাওয়া গেছে
তদন্তে এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ। এসব ফুটেজে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাহসিফের সঙ্গে দীপের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ফুটেজ অনুযায়ী, রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ ও দিশাকে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্তোরাঁ ও বারে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছান দীপ। তিনজন প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন। রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাঁদের বের হতে দেখা যায়।
তবে রেস্তোরাঁ ও বারে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল, সেখানে তাঁদের সঙ্গে অন্য কারও দেখা হয়েছিল কি না এবং বের হওয়ার পর কী ঘটেছিল—এসব বিষয় এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছে।
অন্য একটি সূত্রের দাবি, বার থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফ ও দীপ মোটরসাইকেলে করে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় যান। সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে তাঁদের মাজার রোড দিয়ে ওই এলাকায় প্রবেশ করতে দেখা যায়।
আরেকটি ফুটেজে দুজন করে আরোহী নিয়ে তিনটি মোটরসাইকেলকে একসঙ্গে বস্তি এলাকায় ঢুকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে প্রথম মোটরসাইকেলে ছিলেন তাহসিফ।
তবে ওই এলাকায় গিয়ে তাহসিফ কোনো মাদক গ্রহণ করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর আগে তিনি অ্যালকোহল বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থ গ্রহণ করেছিলেন কি না, তা জানতে তাঁর রক্ত, পাকস্থলী, কিডনি ও ভিসেরার নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তাঁর মৃত্যুর আগের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
টঙ্গীতে মোটরসাইকেল উদ্ধার, দীপের বক্তব্যে অসংগতি
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা জানান, দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তদন্তকারীরা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপের বক্তব্য ছিল, তাঁরা টঙ্গীর ওই এলাকায় অবস্থানকালে কয়েকজনের ধাওয়ার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন এবং তিনি সেখান থেকে সরে যান।
তবে দীপের এই বক্তব্য নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। তাঁরা কেন ওই মাঠে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে দীপ বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি সেখানে যাননি বলেও দাবি করেন। ওই এলাকা আগে থেকে তাঁর পরিচিত ছিল না বলেও জানান।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, মোটরসাইকেলটি কীভাবে নদীর কাছাকাছি ওই স্থানে গেল, সেটি সেখানে কে বা কারা রেখেছিল এবং তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেওয়ার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার পক্ষে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে—এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।
মরদেহের সুরতহালে যা পাওয়া গেছে
তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের পর টঙ্গী নৌ পুলিশ একটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে মরদেহে বাইরে থেকে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি এতে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া তাঁর চোখ ও মুখ বন্ধ ছিল এবং পেট কিছুটা ফোলা ছিল বলেও সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
সুরতহাল প্রতিবেদনে দৃশ্যমান আঘাত না থাকার বিষয়টি মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে না। পানিতে ডুবে মৃত্যু, মৃত্যুর আগে কোনো আঘাত বা অন্য কোনো শারীরিক পরিস্থিতি ছিল কি না, তা নির্ধারণে ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ কারণে তদন্তকারীরা ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
কেন হত্যা মামলা করলেন তাহসিফের বাবা
ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই প্রকৃত কারণ জানতে চেয়ে আসছেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তিনি পানিতে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তাঁর বক্তব্য, ছেলে সাঁতারে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। ফলে শুধু নদে ঝাঁপ দেওয়ার তথ্য দিয়ে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যায় না। মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, কী পরিস্থিতিতে তিনি নদে পড়েছিলেন এবং সেখানে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
৩১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাবার করা লিখিত আবেদনে সরাসরি কাউকে হত্যার অভিযোগ করা হয়নি। বরং ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
পরে উত্তরখান থানা আবেদনটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় হত্যা মামলা করে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। এরপর ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে থাকা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রিমান্ডে দীপ ও দিশা, তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় ৩০ অক্টোবর দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। পরে হত্যা মামলা হওয়ার পর তাঁকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ৩১ অক্টোবর ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এরপর ১ নভেম্বর একই মামলায় জেরিকা তাসনিম দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে ঘটনার রাতে তাহসিফের সঙ্গে তাঁর একাধিক স্থানে যাতায়াত এবং যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই দিন আদালত তাঁরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্তকারীরা দীপ ও দিশার বক্তব্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। ঘটনার আগে ও পরে তাঁদের অবস্থান, মুঠোফোনে যোগাযোগ, চলাচলের পথ এবং সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার ধারাবাহিকতা বের করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষ করে রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার পর তাঁরা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় কী ঘটেছিল, তাহসিফ কীভাবে নদে গেলেন এবং মোটরসাইকেলটি সেখানে কীভাবে পাওয়া গেল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
তবে রিমান্ডে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। তাঁদের বক্তব্য, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল যাচাই না করে মৃত্যুর ঘটনায় কারও দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি মানবাধিকার সংগঠনের
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে পরিবার ও পরিচিতজনদের পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ঘটনাটির স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে অসংগতি, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, মরদেহ শনাক্তকরণ, শরীরে পাওয়া চিহ্ন এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছে।
এ ছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে তাহসিফ আগে গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন বলে যে অভিযোগের কথা এসেছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
তদন্ত পর্যবেক্ষণ করছে রাওয়া
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী কর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়া (RAOWA) তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাঁরা ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার এমন রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, মানবাধিকার সংগঠন ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ওঠায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথমত, ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার পর তাঁর গতিবিধি কী ছিল এবং কারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। দ্বিতীয়ত, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল।
এ ছাড়া দীপের বক্তব্যে অসংগতির কারণ, মোটরসাইকেলটি নদীর কাছাকাছি কীভাবে পৌঁছাল, তাহসিফ কীভাবে পানিতে পড়লেন এবং মৃত্যুর আগে তাঁর শরীরে কোনো নেশাজাতীয় পদার্থ ছিল কি না—এসব বিষয়ও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী উঠে আসে। এসব তথ্যের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের যোগাযোগ এবং রিমান্ডে পাওয়া বক্তব্য মিলিয়ে দেখলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
তাহসিফের পরিবার চাইছে, কোনো অনুমান বা একপক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত শেষ করা হোক। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল এবং তদন্তকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে তাঁর পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা।

