ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

menu

এইচএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করলেও পুনঃপরীক্ষার সুযোগ, বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে শঙ্কা

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ১০:১৪ এএম

এইচএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করলেও পুনঃপরীক্ষার সুযোগ, বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে শঙ্কা

ছবিঃ সংগৃহীত

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরীক্ষা শেষে একই মাসে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর। এর ফলে এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহেই পুনঃপরীক্ষার রুটিন ও ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় উপজেলা পর্যায়ে নির্ধারিত একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ডিসেম্বরের শুরুতে পরীক্ষা নিয়ে ওই মাসেই ফল প্রকাশ করা হবে।

এর আগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৭ নভেম্বর পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হতে পারে। অর্থাৎ পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পরই বিশেষ পরীক্ষার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা ৪ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থী

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় গত শনিবার। এবার ১২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।

এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন। তাঁদের মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।

অর্থাৎ মোট অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশ মাত্র এক বা দুই বিষয়ে পাস করতে না পারায় সামগ্রিকভাবে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তাঁদের জন্য ডিসেম্বরের বিশেষ পরীক্ষা নতুন করে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

ইংরেজি ও আইসিটিতে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য

বিষয়ভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং হিসাববিজ্ঞানে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

এবার ইংরেজিতে ফেল করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের হিসাবে ইংরেজিতে পাসের হার ৬১ দশমিক ১৪ শতাংশ, আইসিটিতে ৭১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং হিসাববিজ্ঞানে ৬৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক ফলেও বড় ব্যবধান দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে মানবিক বিভাগে ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।

গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গতবার ৭২ হাজার ১৭৬ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩২ হাজার ৯২ জন।

ফল বিপর্যয়ের পেছনে শিখন ঘাটতি ও শিক্ষক সংকট

শিক্ষাবিদদের মতে, ইংরেজি, আইসিটি ও হিসাববিজ্ঞানে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি, পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষকের অভাব, আইসিটি বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাযথ মনিটরিংয়ের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, এবারের ফলাফল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গভীর সংকট ও দুর্বলতাকে স্পষ্ট করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মূল্যায়ন শুধু পাস-ফেলের হিসাব নয়; বরং শিক্ষার্থীদের শিখন-অর্জন, দুর্বলতা ও উন্নতির জায়গাগুলো চিহ্নিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

তিনি ফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষক স্বল্পতা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিখন ঘাটতি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আইসিটি ল্যাবের অভাব, দক্ষ শিক্ষকের সংকট এবং বারবার অপরিকল্পিত কারিকুলাম পরিবর্তনের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।

এ ছাড়া সুস্পষ্ট শিক্ষানীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবও শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করছে বলে মনে করেন তিনি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এই শিক্ষাবিদ।

ডিসেম্বরেই পুনঃপরীক্ষা ও ফল প্রকাশের পরিকল্পনা

সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরবর্তী বছর আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলো অথবা ইচ্ছা করলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে এক বা দুই বিষয়ে ফেল করলেও শিক্ষার্থীদের প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হয়।

তবে এবার সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে ডিসেম্বরেই পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে।

পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ পরীক্ষার বিষয়ে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, যারা দুই বিষয়ে ফেল করেছে, তারা কঠোর প্রস্তুতি নিলে উত্তীর্ণ হতে পারবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, পুনঃপরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নতুন করে প্রশ্নপত্র ছাপানো, পরীক্ষক নিয়োগ এবং কেন্দ্র নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের শুরুতে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

২৭ নভেম্বর প্রকাশ হতে পারে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ফল

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গত রোববার থেকে শুরু হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন গ্রহণের পর উত্তরপত্র যাচাই ও নম্বর সংশোধনের প্রক্রিয়া শেষে ২৭ নভেম্বর ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর।

পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে মূলত উত্তরপত্রে নম্বর দেওয়ার পর যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, নম্বর যথাযথভাবে লেখা ও গণনা করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। অন্যদিকে পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়নের আবেদন করা যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত বছর ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পর ৩ হাজার ৭৯ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। ফেল থেকে পাস করেছিলেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন। সব মিলিয়ে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছিল এবং ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের জিপিএ বা গ্রেড পরিবর্তন হয়েছিল।

শিক্ষা বোর্ডসংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষকের ভুল বা নম্বর গণনায় অসংগতির কারণে যাঁদের ফল খারাপ হয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের ফল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। ফলে পুনঃপরীক্ষার আগে পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় চার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত

ডিসেম্বরে পুনঃপরীক্ষা নিয়ে একই মাসে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও নতুন করে উত্তীর্ণ হওয়া অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ হারাতে পারেন। কারণ এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম পুনঃপরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই শুরু হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টায়। আবেদন চলবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। ৫ ডিসেম্বর থেকে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক আবেদন গ্রহণ করা হবে ১২ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি থেকে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ১৫ নভেম্বর এবং চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আগামী বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আবেদন গ্রহণের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ফলে ডিসেম্বরের বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব শিক্ষার্থী জটিলতায় পড়তে পারেন।

গুচ্ছ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকতে পারে

বড় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম আগে শুরু হলেও সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ভর্তির সুযোগ থাকতে পারে পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের।

কারণ এসব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ভর্তি কার্যক্রম সাধারণত বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শুরু হয়। ফলে ডিসেম্বরের বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা সময়মতো ফল পেলে পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত যোগ্যতা, পাসের বছর এবং আবেদনের সময়সীমা পূরণ করতে হবে।

শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাংশের মতে, কেবল প্রস্তুতির অভাবেই সব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন না। পারিবারিক, আর্থিক ও পারিপার্শ্বিক নানা কারণেও অনেকের ফল খারাপ হতে পারে। আবার উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুলের কারণেও কোনো কোনো শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল পান না।

এ অবস্থায় এক বা দুই বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তাঁরা। তবে পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার আশঙ্কা তাঁদের হতাশা বাড়াচ্ছে।

শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ

এদিকে এইচএসসি পরীক্ষায় যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য কিংবা আশঙ্কাজনকভাবে কম, সেসব প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এ বিষয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু শিক্ষার্থীদের ফল বিশ্লেষণ করলেই চলবে না; যেসব প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে ফল খারাপ হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য ডিসেম্বরের বিশেষ পরীক্ষা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে পুনঃপরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচির মধ্যে সমন্বয় না হলে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে পারেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!