ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

menu

বেনাপোল বন্দরের প্রকৌশলীকে লোহার পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১০:১৩ এএম

বেনাপোল বন্দরের প্রকৌশলীকে লোহার পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম

ছবিঃ সংগৃহীত

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান জোয়াদ্দারকে লোহার পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে বন্দরের আবাসিক এলাকার পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী কয়েকজন তাঁর পথরোধ করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টেন্ডারসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

অফিস থেকে ফেরার পথে হামলা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে অফিসের কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান জোয়াদ্দার। রাত ৯টার দিকে বন্দরের আবাসিক এলাকার পাশে পৌঁছালে মুখোশধারী কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর পথরোধ করেন।

এ সময় হামলাকারীরা লোহার পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার পর তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে হামলাকারীর সংখ্যা কত ছিল, তাঁরা কীভাবে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন এবং হামলার পর কোন দিকে পালিয়ে গেছেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

টেন্ডারবিরোধের জেরে হামলার সন্দেহ

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বেনাপোল স্থলবন্দরের কোনো টেন্ডারসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রকৌশলী মেহেদি হাসান জোয়াদ্দারের ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

হামলার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পেশাগত শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। টেন্ডারসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে আসায় তদন্তে এ-সংক্রান্ত সম্ভাব্য বিরোধ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে এ হামলার জন্য দায়ী করার সুযোগ নেই।

বন্দরের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বেনাপোল স্থলবন্দরের একজন কর্মকর্তার ওপর এমন হামলার ঘটনায় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অফিসের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ ধরনের হামলার ঘটনা কর্মস্থলে যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

থানায় মামলা, গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, প্রকৌশলীর ওপর হামলার ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

তদন্তের মাধ্যমে হামলার প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার সঙ্গে টেন্ডারসংক্রান্ত কোনো বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এখন মূল প্রশ্ন, বেনাপোল স্থলবন্দরের একজন প্রকৌশলীর ওপর এই হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য কী। পুলিশি তদন্তের অগ্রগতির ওপরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!