ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

menu

গোয়েন্দা তালিকায় রাজধানীর ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী, গ্রেপ্তার ৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১০:৫২ এএম

গোয়েন্দা তালিকায় রাজধানীর ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী, গ্রেপ্তার ৪৭

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৪৫ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ নির্দেশনার পর অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত এক সপ্তাহে, সোমবার পর্যন্ত, তালিকাভুক্ত ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি সূত্র।

তবে তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, অপরাধের ধরন এবং পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তালিকাভুক্ত সবার বিরুদ্ধে অপরাধের পর্যাপ্ত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, তালিকায় নাম থাকা কয়েকজনের দাবি, তাঁরা রাজনৈতিক বিরোধ বা ষড়যন্ত্রের কারণে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার, বিভিন্ন ইউনিটে তালিকা

ডিএমপি ও এসআরবি সূত্র জানায়, রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৈরি করা তালিকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় সরবরাহ করা হয়েছে। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁরা তালিকা পেয়েছেন এবং সে অনুযায়ী গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। সোমবার পর্যন্ত ডিএমপির পক্ষ থেকে তালিকাভুক্ত ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি জানান, যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মামলা রয়েছে, তাঁদের সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। অভিযানের সময় কারও কাছে অস্ত্র পাওয়া গেলে অস্ত্র আইনে মামলা করা হচ্ছে। আর যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় আটক রাখার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে তিনি জানান। তালিকাটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে তালিকাভুক্ত হলেই কোনো ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হন না। অভিযোগের ভিত্তি, প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রমাণ যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

তেজগাঁও বিভাগে সর্বোচ্চ ১৫৬ জনের নাম

ডিএমপি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে তৈরি করা ৫৪৫ জনের তালিকার মধ্যে ১৫৬ জন তেজগাঁও বিভাগের আওতাভুক্ত। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ পাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তবে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে বাস্তব কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করতে ভুক্তভোগীরা ভয় পেতে পারেন। ফলে অভিযোগকারী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আবার মামলার এজাহারে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পেয়ে যেতে পারেন।

এই পরিস্থিতিতে চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগ গ্রহণে কার্যকর ব্যবস্থা রাখা এবং প্রমাণ সংগ্রহে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খিলক্ষেতের সাবেক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার, পরদিন জামিন

তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহিনুর আলম মারফতের নাম রয়েছে। তাঁর বয়স ৬০ বছর। গত ৪ অক্টোবর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি। তবে পরদিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোরহাব আল হোসাইন বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে এসআরবি থানায় হস্তান্তর করে। তবে তারা কোনো মামলা করেনি। পরে ডিবি তাঁকে নিয়ে যায়।

তালিকায় নাম থাকার বিষয়ে শাহিনুর আলম মারফত দাবি করেন, কেউ ষড়যন্ত্র করে তাঁর নাম চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাঁর ভাষ্য, তিনি রাজনৈতিকভাবে গ্রুপিংয়ের শিকার।

অন্যদিকে, সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে লিটন চোকদার (৩৯) নামের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তবে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, সংশ্লিষ্ট মামলার নথি এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া তাঁদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। অভিযোগের নিষ্পত্তি হতে হবে প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

তালিকাভুক্তদের অপরাধ যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা

ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে তৈরি করা তালিকায় থাকা সবার বিরুদ্ধে অপরাধের পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে কার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তালিকা তৈরির পাশাপাশি প্রতিটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ চিহ্নিত করা, প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নিরপরাধ কাউকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

জামিন ও মামলা নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ

ডিএমপির তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কোনো চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর পর তিনি দ্রুত জামিন পেয়ে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের ওপর তার প্রভাব পড়ে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আইনজ্ঞদের দৃষ্টিতে, জামিন পাওয়া মানেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি নয়; একইভাবে গ্রেপ্তার হওয়াও অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমান নয়। আদালত মামলার নথি, অভিযোগের ধরন, প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করে জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন। তাই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে কার্যকর তদন্তের পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক

তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় আটক রাখার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ডিবিপ্রধান। তবে এ আইন প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ আইনটিকে ‘কালো আইন’ বলে অভিহিত করেন।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বর্তমান সরকার চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি ঘোষণা করেছে। এই নীতি বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে যেকোনো আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বেআইনি আটক, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানির অভিযোগ শোনা যেত। এখন গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় এ ধরনের অভিযোগ মেনে নেওয়া হবে না। যে আইনই প্রয়োগ করা হোক না কেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে।

তাঁর বক্তব্যে অপরাধ দমনের পাশাপাশি নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ যেকোনো আইনের প্রয়োগে আইনগত শর্ত পূরণ, সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার রক্ষা করা অপরিহার্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা

ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের আটক করার পর তাঁদের বিরুদ্ধে কী প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে এক বৈঠকে আলোচনা হয়।

সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপাতত আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সরকার কীভাবে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে, তা নিয়ে কাজ চলছে। দ্রুত এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে অভিযোগের ধরন, মামলার প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ নিশ্চিত করা হলে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া কার্যকর হতে পারে।

ওয়ারী বিভাগেও ২০ থেকে ২৫ জনের নাম

ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, তাঁদের বিভাগের তালিকায় ২০ থেকে ২৫ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে কয়েকজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

তাঁর মতে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও এ ধরনের অপরাধী চক্র সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাবে।

অন্যদিকে, এসআরবির মুখপাত্র ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তালিকা পাওয়ার পর থেকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।

চাঁদাবাজি দমনে প্রয়োজন অভিযোগ, প্রমাণ ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা

রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে ভুক্তভোগীরা ভয়ভীতি, হয়রানি কিংবা ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় পিছিয়ে যান—এমন পরিস্থিতি থাকলে অপরাধের প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় শুধু তালিকা তৈরি বা গ্রেপ্তার অভিযান চালানোই যথেষ্ট নয়। চাঁদাবাজির অভিযোগ গ্রহণে সহজ ও নিরাপদ ব্যবস্থা, অভিযোগকারীর পরিচয় ও নিরাপত্তা রক্ষা, দ্রুত তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং আদালতে যথাযথভাবে মামলা পরিচালনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে গোয়েন্দা তালিকার তথ্য নিয়মিত যাচাই ও হালনাগাদ করা, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি না করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। এতে অপরাধ দমনের পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

রাজধানীতে ৫৪৫ জনের তালিকা তৈরি এবং এক সপ্তাহে ৪৭ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ব্যাপ্তি তুলে ধরছে। তবে এই অভিযানের কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রমাণভিত্তিক তদন্ত, স্বচ্ছ আইন প্রয়োগ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর। অপরাধ দমনের নামে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, আবার প্রমাণিত অপরাধীরাও যেন আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে দায় এড়াতে না পারেন—এটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!