বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতর (ইউএসটিআর)। জোরপূর্বক শ্রমে (ফোর্সড লেবার) উৎপাদিত পণ্য বা কাঁচামালের আমদানি প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। যদিও এটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে কার্যকর হলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
ইউএসটিআর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় গত মার্চে তদন্ত শুরু করে। সংস্থাটির অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে লিখিত মতামত ও বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই শুনানিতে বাংলাদেশ সরকার অংশ নিচ্ছে না। সরকারের অবস্থান হলো, প্রকাশ্য শুনানির পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হবে। তবে বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, শুনানিতে অংশ নিয়ে তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরলে তদন্তে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত।
বাংলাদেশ সরকার ও তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিজিএমইএর নেতারা বলছেন, দেশের রফতানিমুখী শিল্পে আন্তর্জাতিক শ্রমমান ও বৈশ্বিক ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয় এবং জোরপূর্বক শ্রমের কোনো চর্চা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ভিয়েতনাম, ভারত, মেক্সিকোসহ অন্যান্য বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ফলে নতুন ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি রফতানি আয়, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুর পাশাপাশি বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা (স্ট্রাকচারাল এক্সেস ক্যাপাসিটি) নিয়েও পৃথক তদন্ত চালাচ্ছে ইউএসটিআর। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক ও সিমেন্ট শিল্পকে এই তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি শ্রমমান, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স বিষয়ে তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী সংগঠন ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখাও জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

