নাটোরের গুরুদাসপুরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রুশ নাগরিকদের বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে মালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন রুশ নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকের চালকের সহকারী ইমন (২২) নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমন নাটোর সদর উপজেলার খোলাবাড়িয়া এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কয়েকজন রুশ নাগরিককে নিয়ে একটি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বাসটি বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তালবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাস ও ট্রাক দুটিই দুমড়েমুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় বাসে থাকা ১২ জন রুশ নাগরিক আহত হন। তাদের মধ্যে চারজন নারী রয়েছেন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গভীর রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে নিরাপত্তা বিবেচনায় আহতদের ঈশ্বরদীর রুশ পল্লিতে স্থানান্তর করা হয়।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, "নিরাপত্তাজনিত কারণে রুশ নাগরিকরা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করে নিরাপদ স্থানে পাঠানো হয়েছে।"
গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার রুস্তম আলী জানান, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক সরিয়ে মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতগতিতে চলা এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

