ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

মরুভূমির খেজুর এবার পাবনার মাটিতে, তরুণ উদ্যোক্তা হিরুর সাফল্যে নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

মরুভূমির খেজুর এবার পাবনার মাটিতে, তরুণ উদ্যোক্তা হিরুর সাফল্যে নতুন সম্ভাবনা

ছবিঃ সংগৃহীত

মরুভূমির ফল হিসেবে পরিচিত উন্নত জাতের খেজুর এখন সফলভাবে চাষ হচ্ছে বাংলাদেশের মাটিতেও। একসময় যে খেজুর পুরোপুরি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো, সেই খেজুরই চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন পাবনার তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুদ্দিন হিরুক। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই কৃষক, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, ২০২২ সালে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুদ্দিন হিরুক গয়েশপুর এলাকার রাজিবের কাছ থেকে কয়েকটি উন্নত জাতের খেজুরের চারা সংগ্রহ করেন। শুরুতে মাত্র ৩৩ শতাংশ জমিতে চারটি চারা রোপণ করেন তিনি। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের খেজুরের চাষ সম্ভব নয়। নানা সমালোচনা ও নিরুৎসাহ সত্ত্বেও তিনি ধৈর্য, নিয়মিত পরিচর্যা এবং কৃষিবিষয়ক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন।

বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে প্রায় ৬০টি খেজুরগাছ। এখানে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় আজওয়া, মেজুল, মরিয়ম, ছুক্কারি, ওয়ারহিছ, বড়ইসহ ১০ থেকে ১২টি উন্নত জাতের খেজুরের গাছ রয়েছে। অনেক গাছে ইতোমধ্যেই ফল ধরেছে এবং কিছু গাছে উন্নতমানের সাকারও উৎপন্ন হয়েছে, যা দিয়ে নতুন বাগান তৈরি করা সম্ভব।

এখন বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে খেজুরের থোকা। সবুজ পাতার ফাঁকে ফলভর্তি গাছের সারি যেন তৈরি করেছে মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর বাগানের আবহ। এই ব্যতিক্রমী বাগান দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। কেউ খেজুর চাষের কৌশল জানতে আসছেন, আবার কেউ নতুন বাগান করার পরিকল্পনা নিয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।

দর্শনার্থী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, "আমরা এতদিন জানতাম উন্নত জাতের খেজুর শুধু সৌদি আরবেই হয়। এখন নিজের এলাকায় এমন বাগান দেখে খুবই ভালো লাগছে। আমিও ভবিষ্যতে খেজুর চাষ করতে আগ্রহী।"

স্থানীয় যুবক রুহুল আমিন বলেন, "মরুভূমির খেজুর যে বাংলাদেশের মাটিতেও ফলতে পারে, সেটির বাস্তব প্রমাণ হিরু ভাইয়ের এই বাগান। সুযোগ পেলেই এখানে এসে ঘুরে যাই।"

খেজুর চাষি সাইফুদ্দিন হিরুক জানান, শুরুতে অনেকেই তার উদ্যোগকে উপহাস করেছিলেন। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। এখন গাছে ফল এসেছে, যা তাকে আরও উৎসাহিত করেছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খেজুর চাষ সম্প্রসারণ করে দেশে একটি নতুন কৃষি সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জাত নির্বাচন, আধুনিক পরিচর্যা, পরাগায়ন এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের আবহাওয়াতেও উন্নত জাতের খেজুর চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সাইফুদ্দিন হিরুকের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!