কর জাল (ট্যাক্স নেট) সম্প্রসারণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব করতে দেশের ভ্যাট কমিশনারেটগুলোর অধিক্ষেত্র (জুরিসডিকশন) পুনর্নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ফলে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) নতুন কমিশনারেটের আওতায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) এনবিআর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় বিআইএন নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা পরিবর্তিত হলেও প্রতিষ্ঠানের নাম, মালিকানা, করদাতার তথ্য এবং অন্যান্য নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য অপরিবর্তিত থাকবে।
আমদানি-রপ্তানিতে যাতে বিঘ্ন না ঘটে
এনবিআর জানিয়েছে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য বা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে কোনো ধরনের জটিলতা বা বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে কাস্টমসের সার্ভার সিস্টেমে পুরোনো ও নতুন—উভয় বিআইএন নম্বরই সাময়িকভাবে সক্রিয় রাখা হয়েছে।
এর ফলে পূর্বের বিআইএন ব্যবহার করে ইতোমধ্যে খোলা লেটার অব ক্রেডিট (এলসি), বিল অব এন্ট্রি, কাস্টমস ঘোষণাপত্র, শুল্কায়ন এবং অন্যান্য চলমান কাস্টমস কার্যক্রম আগের নিয়মেই সম্পন্ন করা যাবে। ফলে ব্যবসায়ীদের চলমান বাণিজ্যিক কার্যক্রমে তাৎক্ষণিক কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করেছে এনবিআর।
৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন বিআইএনে স্থানান্তরের নির্দেশ
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পুরোনো বিআইএনের আওতায় থাকা সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে নতুন বিআইএন ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এনবিআর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম হওয়ার পর পুরোনো বিআইএন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় (ইনঅ্যাকটিভ) হয়ে যাবে। এরপর থেকে আমদানি, রপ্তানি, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, শুল্কায়ন এবং অন্যান্য ভ্যাট ও কাস্টমস-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম শুধুমাত্র নতুন বিআইএন নম্বর ব্যবহার করেই সম্পন্ন করতে হবে।
কর প্রশাসনকে আধুনিক করার উদ্যোগ
এনবিআরের মতে, ভ্যাট কমিশনারেটগুলোর অধিক্ষেত্র পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, করদাতাদের দ্রুত ও সহজ সেবা প্রদান, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং কর আহরণ আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
এছাড়া নতুন কাঠামোর মাধ্যমে করদাতাদের প্রশাসনিক সেবা সহজতর হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনাও আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের সহযোগিতা কামনা
রাজস্ব প্রশাসনকে আন্তর্জাতিক মানের, প্রযুক্তিনির্ভর এবং অধিক কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে এনবিআর সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস ব্যবহারকারী এবং অন্যান্য অংশীজনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে।
এনবিআর বলেছে, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ব্যবসায়ীদের সময়মতো নতুন বিআইএন ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

