ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক: সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে কী বলা আছে?

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ১১:০৪ এএম

রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক: সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে কী বলা আছে?

ছবিঃ সংগৃহীত

সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ (Article 51)। রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি, বিচারযোগ্যতা এবং দায়িত্ব পালনের সময় আইনি সুরক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্য হলো—রাষ্ট্রপতি যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা আইনি চাপের মুখে না পড়ে স্বাধীনভাবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ কারণে রাষ্ট্রপতির জন্য কিছু বিশেষ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে কী বলা হয়েছে?

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা নির্ধারণ করা হয়েছে—

১. আদালতের কাছে জবাবদিহির বাধ্যবাধকতা নেই

রাষ্ট্রপতি তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। অর্থাৎ, দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া সাংবিধানিক সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে আদালতে ব্যাখ্যা দিতে হয় না।

২. দায়িত্ব পালনকালীন ফৌজদারি মামলার সুরক্ষা

রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের, বিচার বা পরিচালনা করা যাবে না। এটি রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

৩. গ্রেপ্তার বা আটক করা যাবে না

রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা আটকাদেশ জারি করতে পারবেন না। ফলে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি গ্রেপ্তার বা আটক থেকে সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত থাকেন।

৪. দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান

রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত বা দেওয়ানি মামলা করতে চাইলে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় আগে লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হয়। এই বিধানও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে অযথা আইনি জটিলতা এড়ানোর জন্য রাখা হয়েছে।

কেন দেওয়া হয়েছে এই দায়মুক্তি?

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর একটি। রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সময় যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ব্যক্তিগত বিরোধ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মাধ্যমে তাঁর সাংবিধানিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই এই বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশেও রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য দায়িত্ব পালনকালীন অনুরূপ আইনি সুরক্ষা বিদ্যমান।

পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কী হবে?

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালীন সুরক্ষার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে, তা নির্ভর করবে অভিযোগের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট আইন এবং আদালতের সাংবিধানিক ব্যাখ্যার ওপর।

অর্থাৎ, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ সুরক্ষা দিলেও পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি সব ধরনের আইনি দায় থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি পাবেন—এমন কোনো স্পষ্ট বিধান এতে নেই।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা মূলত এই সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও এর প্রয়োগকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে সংবিধানের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক অনুচ্ছেদ, বিদ্যমান আইন এবং আদালতের ব্যাখ্যার ওপর।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!