ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

menu

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবির মধ্যে আজ বসছে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১০:০৩ এএম

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবির মধ্যে আজ বসছে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বোর্ড

ছবিঃ সংগৃহীত

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গার্মেন্টস শিল্পের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা। বিকেল ৩টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু এবং চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে এ সভাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার সকালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম সভার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত সপ্তাহে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু হয়। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন থেকে আন্দোলন গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন এবং আর্থিক নিরাপত্তার দাবিতে এ আন্দোলন চলছে।

এরই মধ্যে গত রোববার সরকার গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। তবে বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক অসন্তোষের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বোর্ডের প্রথম সভায় মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা এবং পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

গেজেটে মজুরি বোর্ডের সদস্যদের নাম প্রকাশ

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মজুরি বোর্ড শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমানের সই করা গেজেটে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশোধিত ২০২৬ সালের বিধান অনুসারে গার্মেন্টস শিল্প খাতের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গেজেটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩৮ ধারার ৩(ক) ও ৩(খ) উপধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে একই আইনের ১৩৯ ধারায় নির্ধারিত কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে গার্মেন্টস শিল্প খাতের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

বোর্ডে সংশ্লিষ্ট শিল্পের মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য করা হয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুবকে মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নিরপেক্ষ সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহে শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে আন্দোলন গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত এবং চিকিৎসা ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত আয় নিশ্চিত করা জরুরি।

অন্যদিকে মজুরি পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিল্পের সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন মজুরি নির্ধারণে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে আলোচনা এবং সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রথম সভায় কী গুরুত্ব পাবে?

নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভার মাধ্যমে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে প্রথম সভাতেই নতুন মজুরির পরিমাণ চূড়ান্ত হবে কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের প্রতিনিধি, মালিকপক্ষ এবং নিরপেক্ষ সদস্যদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রস্তাব, শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা ও শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে এগোতে হবে বোর্ডকে।

শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে এবং তাঁদের ন্যায্য দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে শিল্পসংশ্লিষ্টদের জন্য উৎপাদন অব্যাহত রাখা, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। তবে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে বোর্ডের কার্যক্রম কতটা দ্রুত এগোয় এবং নতুন মজুরি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কী ধরনের সমঝোতা তৈরি হয়, তার ওপর পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!