ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নিতে চায় ওমান, ভিসা চালুর উদ্যোগ

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নিতে চায় ওমান, ভিসা চালুর উদ্যোগ

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে আরও ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওমান। এর মধ্যে ৫ হাজার কৃষি শ্রমিক এবং ৫ হাজার মৎস্যজীবী নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওমানের নিয়মিত শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ভিসা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে ওমানের রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যেদ মোহাম্মদ সেলিম আলী আল সাইদ-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

১০ হাজার কর্মী নেওয়ার বিষয়ে চুক্তি

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে ওমানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরকারের আলোচনা হয়েছে। ওমান ৫ হাজার কৃষি শ্রমিক এবং ৫ হাজার মৎস্যজীবীসহ মোট ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

তিনি জানান, মোট ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। তবে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে আরও আলোচনা ও প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হবে।

আগামী মাসে ওমানের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে। প্রতিনিধি দলটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবে। এরপর কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া ও অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

কোন খাতে যাবে বাংলাদেশি কর্মীরা?

ওমানের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন করে যেসব বাংলাদেশি কর্মী দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, তাদের মধ্যে ৫ হাজার কৃষি খাতে এবং ৫ হাজার মৎস্য খাতে কাজ করবেন।

বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মী দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। নতুন করে ওমানের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে তা বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

ওমানের ভিসা চালুর চেষ্টা

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ওমানের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কারণে বর্তমানে ওমানের ভিসা বন্ধ রয়েছে। আগের সরকারের সময়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের নিয়মিত শ্রমবাজার আবারও উন্মুক্ত করার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।

তিনি বলেন, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা গেলে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি কর্মী বৈধ ও নিয়মিত প্রক্রিয়ায় ওমানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

দক্ষ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকার এখন দক্ষ অভিবাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ কর্মী যাতে ওমানে যেতে পারেন এবং দেশটির বিভিন্ন খাতে কাজ করতে পারেন, সে বিষয়ে ওমান সরকারের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। দক্ষ কর্মী নেওয়ার ব্যাপারে ওমানেরও আগ্রহ রয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং দক্ষতা অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরও ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে কর্মীদের আয় ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ-ওমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের আলোচনা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা, দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

ওমানের রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যেদ মোহাম্মদ সেলিম আলী আল সাইদ ওমানের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও ওমানের সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মী পাঠানোর আগে আরও আলোচনা

১০ হাজার কর্মী নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হলেও বাস্তবে কর্মী পাঠানোর আগে নিয়োগের শর্ত, কর্মীদের দক্ষতা, বেতন, চুক্তির মেয়াদ, কর্মপরিবেশ, আবাসনসহ বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে।

আগামী মাসে ওমানের প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের পর এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

বৈদেশিক কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির বিপুলসংখ্যক কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

এ অবস্থায় ওমানে নতুন করে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর সম্ভাবনা এবং দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে দক্ষ কর্মী তৈরির পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কম ব্যয়ের অভিবাসন নিশ্চিত করা গেলে নতুন এই শ্রমবাজার থেকে বাংলাদেশি কর্মী ও দেশের অর্থনীতি উভয়ই উপকৃত হতে পারে।

সংক্ষেপে যা জানা গেল
বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নিতে চায় ওমান।
এর মধ্যে ৫ হাজার কৃষি শ্রমিক ও ৫ হাজার মৎস্যজীবী থাকবেন।
কর্মী নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা জানিয়েছে সরকার।
আগামী মাসে ওমানের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মী নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের নিয়মিত ভিসা চালুর চেষ্টা করছে সরকার।
দক্ষ কর্মীদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দুই দেশ কাজ করছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেছে ওমান।
দুই দেশের অর্থনৈতিক ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!