পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের ফোগো দ্বীপে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। পাহাড়ি সড়ক থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস ছিটকে প্রায় ৩০ মিটার গভীর খাদে পড়ে গেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং কিশোর-কিশোরী বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা ইনফোরপ্রেস। দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ফোগো দ্বীপের উত্তরাঞ্চলের একটি পাহাড়ি সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কেপ ভার্দের জাতীয় সংবাদ সংস্থা ইনফোরপ্রেস হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
মুহূর্তেই খাদে পড়ে বাস
প্রত্যক্ষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে পাহাড়ি সড়ক দিয়ে বাসটি চলাচলের সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে যায়। এরপর বাসটি প্রায় ৩০ মিটার নিচে একটি গভীর খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। খাদে পড়ে যাওয়ায় বাসটির ভেতরে থাকা যাত্রীদের অনেকে গুরুতরভাবে আহত হন। পরে হতাহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে দুর্ঘটনাটি ঠিক কী কারণে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহতদের অনেকেই স্কুলশিক্ষার্থী
দুর্ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো, বাসটির যাত্রীদের একটি বড় অংশ ছিল স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোর। ইনফোরপ্রেস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ভ্রমণের আয়োজন কোনো স্কুল কর্তৃপক্ষ করেনি। বাসচালক নিজ উদ্যোগে প্রতিবছর এমন ভ্রমণের আয়োজন করতেন। এবারও তার উদ্যোগে শিক্ষার্থীসহ অন্যরা ভ্রমণে বের হয়েছিলেন।
দুর্ঘটনায় ওই বাসচালকও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইনফোরপ্রেস।
কয়েকজন হাসপাতালে
দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজনকে ফোগোর সাও ফ্রান্সিসকো দে আসিস আঞ্চলিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
উদ্ধারকাজ শেষে দুর্ঘটনাস্থলে মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারের কাজও চালানো হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতায় স্থানীয়দেরও সহযোগিতা নিতে হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্রুত দাফন করা হয়েছে কয়েকজনকে
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সাতজনের মরদেহ রোববারই দাফন করা হয়েছে। মরদেহগুলোর অবস্থার কারণে দ্রুত দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে নিহতদের বড় একটি অংশ শিশু ও কিশোর-কিশোরী হওয়ায় দুর্ঘটনাটি পুরো এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
প্রেসিডেন্টের শোক
দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া পেরেইরা নেভেস। এক বিবৃতিতে তিনি ঘটনাটিকে ‘বড় বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো অজানা
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাসটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, চালকের কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না, সড়কের অবস্থা কেমন ছিল কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না—এসব বিষয় এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
কেপ ভার্দেতে শোকের আবহ
ফোগো দ্বীপের এই দুর্ঘটনা কেপ ভার্দেতে ব্যাপক শোকের সৃষ্টি করেছে। পাহাড়ি এলাকায় দুর্গম সড়ক, গভীর খাদ এবং রাতের ভ্রমণের ঝুঁকি—সবকিছু মিলিয়ে দুর্ঘটনাটি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু এবং নিহতদের বড় অংশ শিশু-কিশোর হওয়ায় ঘটনাটি দেশটির মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সড়ক নিরাপত্তা, পাহাড়ি পথে যান চলাচল এবং শিক্ষার্থীসহ শিশু-কিশোরদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভ্রমণের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এসব বিষয়ের কোনোটি দুর্ঘটনার সরাসরি কারণ হিসেবে এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
রয়টার্স ও ইনফোরপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতের এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

