ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

menu

যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম

যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে মোতায়েন করা সব বি-১ বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বিবৃতিতে বলেন, আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন করা মার্কিন বোমারু বিমানগুলো পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে এর আগে সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনী স্থানান্তরের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

নিরাপত্তা ঘটনার পর বিমান সরিয়ে নেওয়ার তথ্য

ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির আশপাশে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার কয়েক দিন পর মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলো।

দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ওই বিমানঘাঁটির কাছে গত রোববার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় এক কৃষক কয়েকজন ব্যক্তিকে কয়েকটি যানবাহন নিয়ে বিমানঘাঁটির আশপাশে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে দেখে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।

এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানঘাঁটির কাছাকাছি ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হলেও তদন্তকারীরা পরে জানান, সন্দেহজনক যানবাহনগুলোতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

তবে যানবাহনগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিক গ্রেপ্তার

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী লন্ডনের বাসিন্দা পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তবে পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্তি পান। তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটন তীব্র সমালোচনা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশের প্রধান লরেন্স টেলর যানবাহন থেকে পেট্রোল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং বিমানঘাঁটির নিরাপত্তার জন্য তারা কোনো হুমকি তৈরি করেছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড যুক্তরাজ্যে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক বিমানঘাঁটি। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বোমারু বিমান পরিচালনা ও মোতায়েনের ক্ষেত্রে ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বিশেষ করে বি-১ ল্যান্সার বোমারু বিমানসহ মার্কিন দূরপাল্লার সামরিক বিমান বিভিন্ন সময়ে এই ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে অবস্থিত হওয়ায় ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় ফেয়ারফোর্ডের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

ইরানে মার্কিন হামলায় ব্যবহার হয়েছিল ঘাঁটিটি

ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিটি সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে মার্কিন হামলার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট ছিল। ওই অভিযানে ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে ফেয়ারফোর্ড থেকে বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি সামরিক ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে পেন্টাগনের বিবৃতিতে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

নিরাপত্তার কারণেই তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল

পেন্টাগনের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনী স্থানান্তরের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করার অন্যতম কারণ ছিল নিরাপত্তা।

সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের সরঞ্জাম বা যুদ্ধবিমান কোথায় মোতায়েন রয়েছে—এ ধরনের তথ্য প্রকাশ্যে আসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত বিষয় বিবেচনা করা হয়। এ কারণেই ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন করা বোমারু বিমানগুলোর প্রত্যাবর্তনের তথ্যও পরে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তদন্তে এখনো গুরুত্ব পাচ্ছে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড

বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া, পুলিশি তৎপরতা এবং যানবাহনে তল্লাশির পর বিস্ফোরক না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা কমেছে।

তবে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাঁচজনের গ্রেপ্তার, তাদের জামিনে মুক্তি এবং ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ফেয়ারফোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার কাছে এ ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বোমারু বিমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হওয়ায় ঘটনাটির প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও নজর রয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!