রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে কোনো প্রকার বৈধ লাইসেন্স ও বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদন ছাড়াই সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন বেকারি পণ্য, যার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় আইটেম হলো জন্মদিনের কেক। বিশেষ করে ‘মিম কেক হাউস’ (Mim Cake House)-এর মতো নামসর্বস্ব বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদিত এসব কেক দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ফুটপাত ও স্থানীয় বাজারের সাধারণ দোকানগুলোতে।
সরেজমিনে আশুলিয়া, সাভারসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকর্ষণীয় ও রঙিন প্যাকেটে মোড়ানো এসব কেক দোকানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। প্যাকেটের গায়ে `ম্যানুফ্যাকচারড বাই: মিম কেক হাউস, ঢাকা-বাংলাদেশ` লেখা থাকলেও সেখানে কোনো বিএসটিআই-এর অনুমোদিত সিল বা লোগো পাওয়া যায়নি। এমনকি কোনো কোনো প্যাকেটের পাশে স্থানীয় অন্যান্য ব্র্যান্ডের (যেমন: মদিনা সুইটস) নাম থাকলেও এগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া ও মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভ ও সংশয় দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন ক্রেতারা জানান, সাধারণ মানুষ অল্প দামে চকচকে মোড়ক দেখে শিশুদের জন্মদিনের জন্য বা আনন্দের যেকোনো মুহূর্তে এসব কেক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা জানেনই না যে, এগুলো কোনো অনুমোদিত কারখানায় তৈরি নয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইসেন্সবিহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব কেকে ব্যবহৃত হচ্ছে ক্ষতিকারক ইন্ডাস্ট্রিয়াল রঙ, মেয়াদোত্তীর্ণ ডালডা এবং নিম্নমানের উপাদান। ফলশ্রুতিতে এগুলো খেয়ে শিশুরা সবচেয়ে বেশি পেটের পীড়া, গ্যাস্ট্রিক, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ জনগণের দাবি— দ্রুত এসব অনুমোদনহীন ও ভেজাল কেক উৎপাদনকারী কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হোক, যেন জনস্বাস্থ্য এভাবে হুমকির মুখে না পড়ে।

