এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল নিয়ে কোনো ধরনের অতিরঞ্জন বা নম্বর বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতায় যে পারফরম্যান্স করেছে, তার ভিত্তিতেই ফলাফল দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “যে শিক্ষার্থী যতটুকু পড়াশোনা করেছে, তেমনই ফলাফল পেয়েছে। মন খুলে গান গাওয়া যায়, কিন্তু পরীক্ষার খাতায় ইচ্ছেমতো নম্বর দেওয়া যায় না।”
তিনি বলেন, এবার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যে নম্বর পেয়েছে, তার ভিত্তিতেই ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে কারও প্রত্যাশার সঙ্গে ফলাফল না মিললেও সেটিকে বাস্তবতার আলোকে দেখতে হবে।
খাতা পুনঃনিরীক্ষণে পুরো উত্তরপত্র যাচাই
অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো কারণে প্রত্যাশিত ফল করতে পারে না। আবার মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও ভুল-ত্রুটির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ কারণে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, যেসব শিক্ষার্থী খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করবে, তাদের সম্পূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষা করা হবে। মূল্যায়নের কোথাও ভুল বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩১২ প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণ করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। কোথায় শিক্ষার মানের ঘাটতি রয়েছে, কোথায় শিক্ষক বা ব্যবস্থাপনার সমস্যা রয়েছে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
এবার সব বোর্ড মিলিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।
জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে শিক্ষামন্ত্রী ফলাফলের সংখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আগামী বছরের এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। ধাপে ধাপে পরীক্ষার সময়সূচি আরও এগিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সময়সূচি এবং সামগ্রিক শিক্ষাপঞ্জি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ফল প্রকাশের পর প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের বিষয়ে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পুনঃনিরীক্ষণের মাধ্যমে উত্তরপত্রে কোনো মূল্যায়নগত ভুল বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে।
ফলাফল দিয়ে শিক্ষার মান যাচাইয়ের উদ্যোগ
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু পাসের হার বা জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দিয়ে শিক্ষার সামগ্রিক মান নির্ধারণ করা যায় না। কোন প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে ভালো বা খারাপ ফল হচ্ছে, কোন অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বেশি এবং কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করাও জরুরি।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে এবার ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার প্রকৃত মান, পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

