ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুই বিদেশি জাহাজের সংঘর্ষ, উদ্ধারকাজে নৌবাহিনী-কোস্ট গার্ড

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুই বিদেশি জাহাজের সংঘর্ষ, উদ্ধারকাজে নৌবাহিনী-কোস্ট গার্ড

ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে বহির্নোঙর এলাকায় আমদানিকৃত পণ্যবাহী মোটর ট্যাংকার ‘সী স্পাইক’ ও বাল্ক ক্যারিয়ার ‘সান শাইন’-এর মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চট্টগ্রাম বন্দরের পোর্ট টাগবোট। পরে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে যোগ দেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ও সোয়াডস (SWADS) বোট। পাশাপাশি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেন।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষের দাবি

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, বহির্নোঙরে অবস্থানরত একটি মাদার ভেসেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে থাকা অপর একটি মাদার ভেসেলকে সজোরে ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারায়, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজ দুটির অবস্থান, নোঙর ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া ও সাগরের পরিস্থিতিসহ বেশ কিছু বিষয় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তবে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের আগে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও নিরাপত্তা তৎপরতা

সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পোর্ট টাগবোট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ও সোয়াডস বোটও উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত হয়। কোস্ট গার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর জাহাজ দুটির নিরাপত্তা এবং বহির্নোঙরে অবস্থানরত অন্যান্য জাহাজের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও নিশ্চিত নয়

চট্টগ্রাম বন্দরের রেফায়েত হামিম সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বন্দরের জলসীমায় একটি মোটর ট্যাংকার ও একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজ দুটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিংবা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে জাহাজ দুটির কাঠামোগত ক্ষতি, পণ্য বা জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ার কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না—সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করছে।

দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যিক এলাকা। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী জাহাজ সেখানে অবস্থান করে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকে। ফলে এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনায় শুধু সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজ নয়, আশপাশে থাকা অন্যান্য জাহাজের নিরাপত্তা এবং বন্দরের সামগ্রিক নৌ-চলাচল ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাহাজ দুটির অবস্থা ও সংঘর্ষের কারণ খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!