ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

বিমানবন্দরের বাইরে গাড়িতে মিলল ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার স্বর্ণ ১৪ বার ও ১২ পাত উদ্ধার, গাড়ি ফেলে পালালেন চালক

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

বিমানবন্দরের বাইরে গাড়িতে মিলল ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার স্বর্ণ ১৪ বার ও ১২ পাত উদ্ধার, গাড়ি ফেলে পালালেন চালক

ছবিঃ সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরের গোলচত্বর এলাকা থেকে একটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১৪টি স্বর্ণের বার ও ১২টি স্বর্ণের পাত উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ১ হাজার ৮১২ গ্রাম, যা ২৪ ক্যারেটের বলে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ৮৯২ টাকা ৪৮ পয়সা।

সোমবার (১০ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাড়িতে তল্লাশি

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বাইরের গোলচত্বর এলাকায় সন্দেহভাজন একটি গাড়ির গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়। একপর্যায়ে গাড়িটিকে থামানোর সংকেত দেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

কিন্তু কর্মকর্তাদের সংকেত পেয়ে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে গাড়ির চালক মো. শামীম মিয়া গাড়িটি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সহযোগিতায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এয়ারফ্রেইট সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিত্যক্ত গাড়িটিতে তল্লাশি চালান।

গাড়ির ভেতরেই মিলল স্বর্ণের বড় চালান

তল্লাশির একপর্যায়ে গাড়ি থেকে ১৪টি স্বর্ণের বার এবং ১২টি স্বর্ণের পাত উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা স্বর্ণ কাস্টমস হলে নিয়ে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইনভেন্টরি প্রস্তুত করা হয়।

ঢাকা কাস্টম হাউসের স্বর্ণ পরীক্ষার যন্ত্রে পরীক্ষা করে দেখা যায়, উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ১ হাজার ৮১২ গ্রাম বা ১৫৫ দশমিক ৩৫ ভরি। পরীক্ষায় স্বর্ণের মান ২৪ ক্যারেট বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের হিসাবে, উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ৮৯২ টাকা ৪৮ পয়সা।

স্বর্ণের পাশাপাশি মিলেছে মোবাইল-ল্যাপটপ ও নগদ টাকা

শুধু স্বর্ণ নয়, গাড়িটি তল্লাশি করে আরও বেশ কিছু সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

একটি নতুন আইফোন ১৭ প্রোসহ মোট ৩টি মোবাইল ফোন
নগদ ১ লাখ ৭ হাজার ৫৮৫ টাকা
একটি ব্যবহৃত ল্যাপটপ
বিভিন্ন ব্যাংকের ৮টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড
২টি ড্রাইভিং লাইসেন্স
একটি জাতীয় পরিচয়পত্র
আরও কিছু আনুষঙ্গিক সামগ্রী।

এসব সামগ্রীও জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

চালক পালিয়ে যাওয়ায় বাড়ছে সন্দেহ

কাস্টমস কর্মকর্তাদের থামার সংকেত পাওয়ার পর গাড়ি ফেলে চালকের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণ কোথা থেকে এসেছে, কার মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিশেষ করে বিমানবন্দরের বাইরের এলাকা থেকে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত পলাতক চালক মো. শামীম মিয়া এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মামলার পর তদন্তের মাধ্যমে স্বর্ণের চালানটির উৎস, গন্তব্য, অর্থায়নকারী এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে স্বর্ণ চোরাচালানের বিরুদ্ধে কাস্টমসসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেই এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তদন্তে পুরো চক্রের বিষয়ে কী তথ্য বেরিয়ে আসে, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!