একসময় বিশ্বকাপে জায়গা করাই ছিল মরক্কোর বড় সাফল্য। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক ফুটবল একাডেমি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তরুণ খেলোয়াড় তৈরিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উদীয়মান শক্তিতে পরিণত হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
২০০৮ সাল থেকে বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদের উদ্যোগে ফুটবলকে জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মোহাম্মদ ষষ্ঠ ফুটবল একাডেমি, যা বর্তমানে মরক্কোর ফুটবল বিপ্লবের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একসময় বিশ্বকাপ ও আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হওয়া মরক্কো, ২০১৭ সালে রয়্যাল মরোক্কান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফাউজি লেকজার নেতৃত্বে নতুন যুগে প্রবেশ করে। বয়সভিত্তিক দল, নারী ফুটবল এবং সিনিয়র দল—সব পর্যায়ে একই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
এর ফল মিলতে শুরু করে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ে মরক্কো। সেই আসরে বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় অ্যাটলাস লায়ন্স।
এরপর ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে ব্রোঞ্জপদক জিতে তারা প্রমাণ করে, বিশ্বকাপের সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। একই ধারাবাহিকতায় অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও শিরোপা জিতে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার শক্ত বার্তা দেয় মরক্কো।
বর্তমানে দেশটির লক্ষ্য শুধু প্রবাসী ফুটবলারদের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায় থেকেই বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করা। উন্নত স্কাউটিং ব্যবস্থা ও একাডেমিভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনস, ২০২৬ নারী আফ্রিকা কাপ এবং স্পেন-পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মরক্কো। নির্মাণাধীন ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়াম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফুটবল ভেন্যু হতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে মরক্কো এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম নতুন পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

