দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নয়নকাজের পাশাপাশি অব্যবস্থাপনার কারণে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলায় প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী ও তাদের স্বজনরা। আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনালের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহনের সারি, এলোমেলো পার্কিং এবং পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক টার্মিনালের সামনে থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত গাড়ির দীর্ঘ সারি। আগমনী ও বহির্গমন উভয় অংশেই শত শত গাড়ি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে। পার্কিং এলাকা প্রায় পূর্ণ থাকায় অনেক যানবাহন যত্রতত্র দাঁড়িয়ে রয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, পথচারীদের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে বিমানবন্দর-সংলগ্ন ১ হাজার ৭০ মিটার দীর্ঘ আন্ডারপাস নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ল্যান্ডসাইডের বড় অংশ টিন দিয়ে ঘেরা। প্রায় ১ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে আর্মি সদরদপ্তরের ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। উন্নয়নকাজের কারণে দিকনির্দেশনামূলক সাইনেজও অনেক ক্ষেত্রে আড়ালে চলে গেছে, ফলে নতুন যাত্রীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

যাত্রীরা বলছেন, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় দুর্ভোগ। আগমনী টার্মিনাল থেকে বের হতে যেমন সময় লাগে, তেমনি বহির্গামী যাত্রী নামিয়ে দিয়েও সহজে বের হওয়া যায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে অনেককে।
যাত্রী আজিজুর রহমান বলেন, একটি দেশের প্রথম পরিচয় তার বিমানবন্দর। বিদেশি অতিথিরা যদি বিমানবন্দরে নেমেই বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তির মুখোমুখি হন, তাহলে দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

আরেক যাত্রী ওবায়দুর রহমানের অভিযোগ, টার্মিনালের ভেতরে অতিরিক্ত মানুষের ভিড় ও গাড়ির চাপের কারণে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে আসলাম রহমান বলেন, উন্নয়নকাজ শুরুর আগে বিমানবন্দরের পরিবেশ অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল ছিল। এখন যানবাহনের বিশৃঙ্খলা এবং দীর্ঘ যানজট যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিমানবন্দরে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত খায়রুল আলম বলেন, বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে বের হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশের প্রধান বিমানবন্দর সম্পর্কে বিদেশিদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাবে।
এ বিষয়ে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, সবসময় এমন পরিস্থিতি থাকে না; যাত্রীর চাপ বাড়লেই যানজট তৈরি হয়। গাড়ির শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চলমান আন্ডারপাস নির্মাণকাজ শেষ হলে বিমানবন্দরের যানজট ও চলাচল ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।

