ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি’, আলোচনায় সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি’, আলোচনায় সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান

ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমানের দায়িত্বকালকে কেন্দ্র করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, প্রশাসনিক বিতর্ক এবং রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ঘাটতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাঁর দায়িত্বকালকে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আবদুর রহমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এনবিআরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক রদবদল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ এবং বিরোধী মতের কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে চাপের মুখে ফেলার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।

প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে লক্ষ্য বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় হয়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজস্ব আহরণে দুর্বলতার পাশাপাশি এনবিআরের অভ্যন্তরে প্রশাসনিক অস্থিরতা, কর্মকর্তা বদলি, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, কিছু কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া, শুল্ক ও ভ্যাট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বিতর্ক এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। এসব কারণে এনবিআরের অভ্যন্তরে কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রাজস্ব প্রশাসনে আস্থার সংকট দেখা দেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা আদালতের চূড়ান্ত রায়ে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

এদিকে রাজস্ব প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এনবিআরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কার জোরদার করা গেলে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!