আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। সোমবার (২০ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গত এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।
গত সপ্তাহে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হয় বার্নহামের। তিনি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। এর আগে অ্যান্ডি বার্নহাম গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্থানীয় সরকার পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তা তাকে জাতীয় নেতৃত্বে নিয়ে আসে।
সোমবার সকালে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। সাংবিধানিক প্রথা অনুযায়ী, এরপর রাজা তৃতীয় চার্লস অ্যান্ডি বার্নহামকে নতুন সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বার্নহাম ডাউনিং স্ট্রিটে ফিরে জাতির উদ্দেশে প্রথম বক্তব্য দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর তিনি নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব বণ্টন করবেন।
এদিকে দায়িত্ব ছাড়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক বার্তায় কিয়ার স্টারমার লেখেন, "যেকোনো প্রধানমন্ত্রীর আসল পরীক্ষা হলো—আপনি কি দেশকে আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রেখে যেতে পেরেছেন? আমি গর্বিত যে আমার ক্ষেত্রে এর উত্তর ‘হ্যাঁ’।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি—এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে শুরু থেকেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং জনআস্থা পুনর্গঠনও তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

