ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

হাসির রাজা দিলদারকে হারানোর ২৩ বছর: দর্শকের হৃদয়ে আজও অমলিন কিংবদন্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১২:২২ পিএম

হাসির রাজা দিলদারকে হারানোর ২৩ বছর: দর্শকের হৃদয়ে আজও অমলিন কিংবদন্তি

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা দিলদারের প্রয়াণ দিবস আজ। ২০০৩ সালের এই দিনে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তবে মৃত্যুর দুই দশকেরও বেশি সময় পর আজও কোটি দর্শকের হৃদয়ে একইভাবে বেঁচে আছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

দিলদার ছিলেন এমন একজন শিল্পী, যার উপস্থিতিই পর্দায় এনে দিত প্রাণচাঞ্চল্য। তার সহজাত অভিনয়, স্বতঃস্ফূর্ত সংলাপ আর অনবদ্য হাস্যরস তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের নির্মল আনন্দ দিয়েছে। তাই তাকে আজও অনেকেই ভালোবেসে স্মরণ করেন ‘হাসির রাজা’ হিসেবে।

বর্তমানে তার প্রয়াণ দিবসে পরিবারের সদস্যরাই ব্যক্তিগতভাবে তাকে স্মরণ করেন। একসময় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) তার স্মরণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও কয়েক বছর ধরে সেই আনুষ্ঠানিকতাও বন্ধ রয়েছে। তবু আনুষ্ঠানিকতার বাইরে দর্শকের ভালোবাসায় তিনি আজও সমান উজ্জ্বল।

১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন দিলদার। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। মাত্র ২০ বছর বয়সে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার অভিনয়জীবন। ১৯৭২ সালে ‘কেন এমন হয়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার।

এরপর একে একে তিনি অভিনয় করেন **‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘কন্যাদান’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘সুন্দর আলীর জীবন সংসার’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘শান্ত কেন মাস্তান’**সহ অসংখ্য ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে।

দিলদারের জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে, তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেখেই নির্মিত হয় ‘আব্দুল্লাহ’ চলচ্চিত্র। ছবিটিও দর্শকদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছিল।

অভিনয় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি পান রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ২০০৩ সালে ‘তুমি শুধু আমার’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে সম্মানিত হন।

দিলদারের মৃত্যুর পর ঢাকাই চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনয়ের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা আজও পুরোপুরি পূরণ হয়নি। পরবর্তী সময়ে অনেকেই এ ধারায় কাজ করলেও খুব কম শিল্পীই তার মতো দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিতে পেরেছেন। তাই সময়ের পরিক্রমায় আজও বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীরা ফিরে ফিরে খোঁজেন সেই প্রাণখোলা হাসির মানুষ—দিলদারকে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!