কর্মজীবী নারীদের স্বস্তি ও শিশুর সুষম বিকাশে ডে-কেয়ার কেন্দ্রের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান।
রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশু দিবাযত্ন (ডে-কেয়ার) কেন্দ্র শুধু শিশুদের নিরাপদে রাখার স্থান নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশ এবং দেশ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
সোমবার (৬ জুলাই) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিশুর জীবনের প্রারম্ভিক সময়ই তার শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এ সময়ে মানসম্মত পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে একজন শিশুর মধ্যে মানবিকতা, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ এবং সামাজিক মূল্যবোধের শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল কেয়ারগিভারদের কারণে কর্মজীবী নারীরা নিশ্চিন্তে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। একই সঙ্গে শিশুরাও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও বিকাশের উপযোগী পরিবেশ পায়। তিনি বলেন, কেয়ারগিভাররা শুধু শিশুদের দেখভালই করেন না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রের মাধ্যমে মাত্র ৭ হাজার ৩৬০ জন শিশু সেবা পাচ্ছে, যা দেশের মোট শিশু জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। তাই শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিত করতে দিবাযত্ন কেন্দ্রের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদুর রহমান বলেন, মানসম্মত শিশুযত্ন ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষ, মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ‘শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ’ শীর্ষক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শিশু সমন্বয়) শবনম মোস্তারী। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

