ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

menu

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছাড়াল, আক্রান্ত লাখের কাছাকাছি

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছাড়াল, আক্রান্ত লাখের কাছাকাছি

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন, যা চলতি বছরের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির সংখ্যা। নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনায় দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, নতুন চারজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৩ জনে। অন্যদিকে, এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ২৭৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৭৯৬ জন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৯২ হাজার ৪০৩ জন।

অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে ডেঙ্গুতে ৫৮ জনের মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসের শুরুতেই মৃত্যুর এ সংখ্যা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক দিক তুলে ধরছে।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে মারা গেছেন ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জন। মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০৩ জনে পৌঁছেছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনের মৃত্যুর হিসাব বিশ্লেষণ করলে সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুতে প্রাণহানির উল্লেখযোগ্য চিত্র পাওয়া যায়।

এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ১৯৩ জন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ১৯৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এটি চলতি বছরের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা।

নতুন রোগী ভর্তির ফলে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ২৭৫ জনে। অর্থাৎ, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

একই সময়ে ১ হাজার ৭৯৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯২ হাজার ৪০৩ জন।

তবে নতুন রোগী ভর্তি, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা এবং মৃত্যুর সংখ্যা—এই তিনটি সূচক ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দিয়ে দেশের মোট আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। কারণ, অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।

ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩০ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯৩ জন, বরিশাল বিভাগে ২৩৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬০ জন, রংপুর বিভাগে ৮৪ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৭০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে রোগী ভর্তির সংখ্যা অন্য বিভাগগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। পাশাপাশি খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়তি সতর্কতা জরুরি

ডেঙ্গু ভাইরাসবাহী এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এ মশা বংশবিস্তার করে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, পানির ট্যাংক এবং অন্যান্য জায়গায় জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হতে পারে।

ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমাতে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা এবং পানির পাত্র ঢেকে রাখার মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ৩০৩ জনের মৃত্যু, প্রায় এক লাখ রোগীর হাসপাতালে ভর্তি এবং এক দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৯৩ জন রোগীর হাসপাতালে ভর্তির তথ্য পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত নজরদারি ও হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদের মূল তথ্য একনজরে:

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি: ২ হাজার ১৯৩ জন।
চলতি বছরে মোট মৃত্যু: ৩০৩ জন।
চলতি বছরে মোট হাসপাতালে ভর্তি: ৯৯ হাজার ২৭৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন: ১ হাজার ৭৯৬ জন।
চলতি বছরে মোট সুস্থ: ৯২ হাজার ৪০৩ জন।
অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে মৃত্যু: ৫৮ জন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!