হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের কয়েক দিন পর রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দখলমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। হামলার পর ক্লিনিকের জায়গায় টাঙানো অন্য একটি সাইনবোর্ড সরিয়ে আবারও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির নিজস্ব সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশে শুরু হয়েছে সংস্কারকাজ।
তবে হামলা ও ভাঙচুরের পরও রাড্ডা ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ক্লিনিকের ভেতরে এবং বাইরে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্লিনিক সংশ্লিষ্টরা সেখানে গিয়ে হামলার পর টাঙানো সাইনবোর্ডটি সরিয়ে দেন। পরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির নিজস্ব সাইনবোর্ড পুনরায় স্থাপন করা হয়।
ফিরেছে ক্লিনিকের নিজস্ব পরিচয়
হামলার পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সাইনবোর্ড টাঙানোর অভিযোগ উঠেছিল। সোমবার সকালে সেটি সরিয়ে ক্লিনিকের নিজস্ব সাইনবোর্ড পুনরায় টাঙানো হয়।
এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব পরিচয় ও কার্যক্রম আবারও দৃশ্যমান হয়েছে।
সাইনবোর্ড স্থাপনের পাশাপাশি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থানে সংস্কারকাজও শুরু হয়েছে। কর্মীরা ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ করছেন।
হামলার পরও বন্ধ হয়নি চিকিৎসাসেবা
রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুরের পর ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
সোমবারও ক্লিনিকের ভেতরে স্বাস্থ্যকর্মীরা অবস্থান করে প্রয়োজনীয় সেবা দিয়েছেন। ভবনের বাইরে চেয়ার-টেবিল বসিয়েও কিছু কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও সংস্কারকাজের মধ্যেও রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে হামলা
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্থাপনা ও সামগ্রীতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিয়ে যায়। ঘটনার পর ক্লিনিকের জায়গায় অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নামে সাইনবোর্ড টাঙানোর বিষয়টিও সামনে আসে।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং এর সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
গ্রেপ্তার ৯, উদ্ধার লুট হওয়া মালামাল
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, হামলার সময় লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে কী কী রয়েছে এবং সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা কী—তা তদন্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে।
ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি হামলায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার
রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠার পর এ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে ওসি প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক কারণ এবং তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায়নি।
সংস্কারের পাশাপাশি স্বাভাবিক সেবা ফেরানোর চেষ্টা
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা ক্লিনিকে এখন একদিকে চলছে সংস্কারকাজ, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা চলছে।
ক্লিনিকের নিজস্ব সাইনবোর্ড ফিরে আসায় প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক পরিচয়ও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুরোপুরি মেরামত করে আগের মতো স্বাভাবিক পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা চালু করাই সংশ্লিষ্টদের প্রধান লক্ষ্য।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত। ফলে হামলার কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করার বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
তদন্তে স্পষ্ট হবে হামলার নেপথ্য
হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর এবং ক্লিনিকের জায়গায় অন্য সাইনবোর্ড টাঙানোর ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা।
ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তদন্ত এগিয়ে গেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা, লুট হওয়া সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং ক্লিনিকের সম্পত্তি দখলের কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব প্রশ্নেরও উত্তর মিলতে পারে।
এর মধ্যে দখলমুক্ত হওয়ার পর রাড্ডা ক্লিনিকের নিজস্ব সাইনবোর্ড পুনরায় স্থাপন এবং সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

