ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

menu

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই: ভারতীয় হাইকমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই: ভারতীয় হাইকমিশনার

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অতীতের কোনো নির্দিষ্ট পর্যায়ে আটকে থাকার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও পারস্পরিক যোগাযোগ আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে ঢাকা ও দিল্লি কাজ করছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কেউ ছোট বা বড় নয়। দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ চিন্তা করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে কেবল অতীতের অভিজ্ঞতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এগিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক বাড়ানোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, ঢাকা-দিল্লির মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা ও চিন্তাভাবনা চলছে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে উভয় দেশের জনগণই এর সুফল পেতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

নির্বাচিত সরকারই দেশের রাজনীতি ভালো বোঝে

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারই সবচেয়ে ভালো বোঝে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও বাড়াতে আগ্রহী। তিনি জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্বাগত জানাতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আসার বিষয়টিও বৈঠকের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্যের ক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা ও সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ‘পিপল-টু-পিপল’ যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেন।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বৈঠকে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো চ্যালেঞ্জিং বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এবং নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে স্থল, নৌ ও রেল যোগাযোগের পাশাপাশি বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি, পানি, অবকাঠামো ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যেও সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো—বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে অতীতের সীমাবদ্ধতায় না রেখে ভবিষ্যৎমুখী সহযোগিতার দিকে এগিয়ে নেওয়া এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!