নাটোরের সিংড়ায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি মতবিনিময়ের লক্ষ্যে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সিংড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘পল্লী কল্যাণ শিক্ষা সোসাইটি’ (পিকেএসএস)-এর উদ্যোগে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিশুদের শিক্ষার বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও ঝরে পড়া, মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা ও দাবির কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন।
মূলধারার শিক্ষায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিশুদের যুক্ত করার আহ্বান
গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।

তিনি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে এসব শিশুর শিক্ষার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শিক্ষার সুযোগ থেকে কোনো শিশু যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে গুরুত্ব
পিকেএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ডেইজি আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা, পারিবারিক অসচ্ছলতা কিংবা অন্যান্য কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তারা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা, বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার প্রতি শিশু ও অভিভাবকদের আগ্রহ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
জনগণের নানা সমস্যা ও দাবি
গণশুনানির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল স্থানীয় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ। এ সময় এলাকার ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ সেবাদানকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে তাদের নানা সমস্যা, প্রত্যাশা ও দাবি তুলে ধরেন।
শিক্ষা, সামাজিক সেবা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
জনগণের উত্থাপিত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

উপস্থিত ছিলেন যারা
অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথির মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব অধ্যাপক শারফুল ইসলাম বুলবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন শাখা, ডায়াবেটিকস সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন হোসেন মাস্টার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবু দাউদ এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার শামসুজ্জামান।
এ ছাড়া স্থানীয় জনগণ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা গণশুনানিতে অংশ নেন।
সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব
গণশুনানিতে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশা সরাসরি শোনার সুযোগ থাকলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমে। একই সঙ্গে সরকারি সেবা কতটা কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, সে বিষয়েও বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
তাদের মতে, শিক্ষার সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করা গেলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিশুরা ভবিষ্যতে সমাজের মূলধারায় আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
গণশুনানিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিশুদের শিক্ষার অধিকার ও স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সেবা-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন অংশগ্রহণকারীরা।

