ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

menu

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৩১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৩১৬

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৬ জনে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৭ হাজার ২৯৬ জন।

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৩১৬ জন। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের হিসাব পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জনে। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৭ হাজার ২৯৬ জন।

২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দুই হাজার রোগী

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এক দিনে ১ হাজার ৯৫৪ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত কার্যক্রম এবং রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সব রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩১৬

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি বছরে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৬ জনে।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর এক দিনে ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেটিই ছিল চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান রোগটির ঝুঁকি এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং জটিলতা দেখা দেওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই জ্বর কমে গেলেও বিপৎসংকেত দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জন। তাঁদের মধ্যে ৯৭ হাজার ২৯৬ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এই পরিসংখ্যান দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর উল্লেখযোগ্য প্রভাব তুলে ধরছে। বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি হয়ে উঠেছে।

ডেঙ্গুর বিস্তার কমাতে আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে গুরুত্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। তাই বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির ট্যাংক, পরিত্যক্ত টায়ার এবং বিভিন্ন পাত্রে পানি জমতে দেওয়া উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাড়ির আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। পানির পাত্র ও ট্যাংক ঢেকে রাখতে হবে এবং অব্যবহৃত সামগ্রী পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশন বা সরকারি সংস্থার কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে রোগী শনাক্তকরণ, যথাসময়ে চিকিৎসা, হাসপাতালের প্রস্তুতি এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম একসঙ্গে জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে যেসব এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেখানে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এক দিনে ৯ জনের মৃত্যু এবং প্রায় দুই হাজার নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

এক নজরে ডেঙ্গুর সর্বশেষ পরিস্থিতি:

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ৯ জন
চলতি বছরে মোট মৃত্যু: ৩১৬ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি: ১ হাজার ৯৫৪ জন
চলতি বছরে মোট হাসপাতালে ভর্তি: ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জন
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন: ৯৭ হাজার ২৯৬ জন
এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু: ৬ অক্টোবর, ১০ জন

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!