দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক ও জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এসব কমিটি কবে নাগাদ গঠন করা হবে, কমিটিতে কারা থাকবেন এবং কমিটির কার্যক্রমের ধরন কী হবে—এসব বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ফলে পরবর্তী নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটির কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদক ও জুয়ার মতো সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে মনে করা হচ্ছে।
মাদক ও জুয়াকে অন্যতম প্রধান সমস্যা চিহ্নিত
এর আগে দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে মাদক ও জুয়াকে চিহ্নিত করে এসব নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা ও সুপারিশ করা হয়।
স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে মাদক ও জুয়ার বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পৃথকভাবে প্রতিরোধমূলক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়ার প্রভাব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, সচেতনতা, নিয়মিত নজরদারি এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও কাঠামোবদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কমিটির কাঠামো ও কার্যক্রম এখনো স্পষ্ট নয়
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলেও এর সদস্য কারা হবেন, কমিটির প্রধান দায়িত্ব কী হবে কিংবা নিয়মিতভাবে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
এ ছাড়া কমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সমন্বয়ের কাঠামো কী হবে, সেটিও পরবর্তী নির্দেশনায় স্পষ্ট হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কমিটি গঠনের পাশাপাশি কার্যকর দায়িত্ব বণ্টন, নিয়মিত মনিটরিং এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হলে উদ্যোগটির বাস্তব প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন
মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং মাদক ও জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে নিয়মিত প্রচার চালানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে। তবে সেই কাঠামোর কার্যকারিতা নির্ভর করবে কমিটির গঠন, দায়িত্ব নির্ধারণ, নিয়মিত নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর।

