আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রবেশের আগে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন), বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন), ভ্যাট ও কাস্টমস নিবন্ধনের পাশাপাশি আমদানিকারকদের নিতে হয় আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) এবং রপ্তানিকারকদের নিতে হয় রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ইআরসি)।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এত কাগজপত্র ও নিবন্ধনের পরও আলাদা করে আইআরসি-ইআরসি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি কমাচ্ছে এবং ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বাড়াচ্ছে। তাদের প্রশ্ন—ডিজিটাল কাস্টমস, কর প্রশাসন, ব্যাংকিং নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় বাণিজ্য ব্যবস্থার যুগে প্রায় আট দশক আগের এই পৃথক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো আদৌ কতটা প্রয়োজনীয়?
আইআরসি ও ইআরসি ব্যবস্থার শিকড় মূলত ব্রিটিশ শাসনামলের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে এই কাঠামোর অনেক অংশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়লেও বাংলাদেশ এখনো এর বড় একটি অংশ বহন করছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শুরু
আইআরসি-ইআরসি ব্যবস্থার ঐতিহাসিক শিকড় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৯ সালে ডিফেন্স অব ইন্ডিয়া রুলস বা ভারত প্রতিরক্ষা বিধি জারি করে।
যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জরুরি পণ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল ওই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।
পরবর্তী সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলেও আমদানি নিয়ন্ত্রণের কাঠামো পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর নবগঠিত পাকিস্তানে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট দেখা দিলে আমদানি নিয়ন্ত্রণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান সরকার ১৯৫০ সালে আমদানি-রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করে।
প্রায় আট দশক পরও বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সেই আইনি কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।
যে আইন পাকিস্তান বাতিল করেছে, বাংলাদেশে তার উত্তরাধিকার
বর্তমান ব্যবস্থার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—১৯৫০ সালের আমদানি-রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন পাকিস্তান সরকার ২০০২ সালে বাতিল করেছে। ফলে বাংলাদেশের মতো আলাদা আইআরসি ও ইআরসি সনদ নিয়ে আমদানি-রপ্তানিতে প্রবেশ করতে হয় না পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের।
সেখানে ব্যবসায়ীদের কাস্টমসের ওয়েবভিত্তিক ট্রেডার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, আমদানি-রপ্তানির জন্য আলাদা নিবন্ধন সনদ এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর তা নবায়নের বাধ্যবাধকতা কতটা যৌক্তিক।
বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খানও আইআরসি-ইআরসির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি বলেন, যে আইনের আওতায় বাংলাদেশে আমদানি-রপ্তানি সনদ দেওয়া হয়, সেই আইন পাকিস্তান দুই দশকেরও বেশি আগে বাতিল করেছে। শ্রীলঙ্কায় এ ধরনের সনদের প্রয়োজন নেই। ভারতের ক্ষেত্রে একবার স্থায়ীভাবে সনদ নিতে হয়, সেটি নিয়মিত নবায়নের প্রয়োজন পড়ে না।
তাঁর মতে, বাংলাদেশে ডিরেগুলেশনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে আইআরসি ও ইআরসি নেওয়া এবং নবায়নের পরিবর্তে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) ব্যবহারের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
বছরে নয়, এখন পাঁচ বছর মেয়াদ—তবুও জটিলতা
আগে আইআরসি ও ইআরসি নিয়মিতভাবে নবায়ন করতে হতো। বর্তমানে এসব সনদ পাঁচ বছর মেয়াদে নবায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেয়াদ বাড়লেও সনদ গ্রহণ ও নবায়নের প্রক্রিয়াগত জটিলতা পুরোপুরি দূর হয়নি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের এক গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে অন্তত ৪৯ ধরনের সনদ ও অনুমতিপত্র নিতে হয়।
এতে ব্যবসা শুরু বা সম্প্রসারণের আগে উদ্যোক্তাদের একাধিক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কমপ্লায়েন্স বা প্রশাসনিক বিভাগ থাকলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
আইআরসি নিতে কত খরচ?
বিদ্যমান কাঠামোয় আমদানিকারকদের পণ্য আমদানির সীমা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের আইআরসি নিতে হয়।
সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য আমদানির জন্য আইআরসি ফি শুরু হয় ৫ হাজার টাকা থেকে এবং নবায়ন ফি ৩ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ শ্রেণির ক্ষেত্রে আইআরসি ফি বেড়ে ৮০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়।
অন্যদিকে রপ্তানিকারকদের জন্য রয়েছে ছয় ধরনের নিবন্ধন সনদ। এসব সনদের প্রাথমিক ফি ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু এবং নবায়ন ফি ৭ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়।
ইনডেনটিং সেবার ক্ষেত্রে ইআরসি গ্রহণের ফি ৫০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ২৫ হাজার টাকা।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এই অর্থ শুধু সরকারি ফি নয়; সনদ সংগ্রহ, নবায়ন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত, দপ্তরে যোগাযোগ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হয়।
ছোট উদ্যোক্তার ওপর চাপ বেশি
আইআরসি-ইআরসি ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর—এমন অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ী মহলে।
বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত আইন, কর ও কমপ্লায়েন্স বিষয়ে নিজস্ব কর্মকর্তা বা আলাদা বিভাগ রাখতে পারে। কিন্তু ছোট উদ্যোক্তাদের অনেক সময় তৃতীয় পক্ষের সহায়তা নিতে হয়। ফলে ব্যবসার মূল পরিচালন ব্যয়ের বাইরে প্রশাসনিক খরচও বাড়ে।
বিশেষ করে যারা অল্প পরিমাণে আমদানি বা রপ্তানি করেন, তাদের কাছে নিবন্ধন, নবায়ন ও বিভিন্ন অনুমোদনের খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
সারা দেশে মাত্র ১৪টি আঞ্চলিক দপ্তর
আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো সেবা দেওয়ার ভৌগোলিক বিস্তৃতি। আইআরসি ও ইআরসি ইস্যু ও নবায়নের জন্য ঢাকায় আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের পাশাপাশি সারা দেশে মোট ১৪টি আঞ্চলিক দপ্তর রয়েছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসা ছড়িয়ে পড়লেও সব জেলার উদ্যোক্তাদের জন্য সমানভাবে সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের যুগে সনদসংক্রান্ত অধিকাংশ কাজ অনলাইনে সম্পন্ন করা গেলে উদ্যোক্তাদের সময় ও ব্যয় দুটোই কমানো সম্ভব।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রতিযোগীদের চিত্র ভিন্ন
বাংলাদেশের প্রতিযোগী অনেক দেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থায় আলাদা আইআরসি-ইআরসির বাধ্যবাধকতা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন।
বিশ্বের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক চীনে বাংলাদেশের মতো পৃথক আইআরসি ও ইআরসি ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই; কাস্টমস নিবন্ধনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশ নিতে পারেন।
ভিয়েতনামেও সাধারণ পণ্য আমদানি-রপ্তানির জন্য পৃথক এ ধরনের সনদের বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতিতেও বাংলাদেশের মতো পৃথক আইআরসি-ইআরসি কাঠামো নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ কারণে ব্যবসায়ী মহলের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশেরও সহজ, দ্রুত ও ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এফবিসিসিআই: পৃথক সনদের প্রয়োজন নেই
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক মনে করেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় আইআরসি ও ইআরসি সনদের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
তাঁর মতে, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশকে ডিরেগুলেশনের ওপর জোর দিতে হবে এবং বিশ্বের ও অঞ্চলের কার্যকর বাণিজ্যিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
ফজলুল হক বলেন, কোন পণ্য আমদানি করা যাবে না এবং কোন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের কোন দপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন—এসব বিষয় আমদানি নীতি আদেশেই উল্লেখ থাকে। পাশাপাশি কাস্টমসের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আমদানি সম্পন্ন করতে হয়।
তাই আমদানির জন্য আলাদা সনদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রপ্তানির ক্ষেত্রেও নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা রপ্তানি নীতি আদেশে রয়েছে এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
ডিজিটাল যুগে পুরোনো কাঠামোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন
আইআরসি-ইআরসি ব্যবস্থা যখন তৈরি হয়েছিল, তখন বৈদেশিক বাণিজ্য ছিল অনেক বেশি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণনির্ভর। ব্যবসায়ীদের পরিচয়, পণ্য, লেনদেন ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ সম্পর্কে সরকারের কাছে তথ্য পাওয়ার সুযোগও ছিল সীমিত।
কিন্তু বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি অনেক বদলেছে।
ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা, ভ্যাটের অনলাইন রিটার্ন, টিআইএন, বিআইএন, ব্যাংকিং লেনদেনের নজরদারি, আমদানি-রপ্তানির ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন এবং বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
এ কারণে একই তথ্যের জন্য একাধিক নিবন্ধন ও সনদ ব্যবস্থা চালু রাখা কতটা কার্যকর—তা নতুন করে মূল্যায়নের দাবি উঠেছে।
সনদ বিলুপ্ত হলে সরকারেরও ব্যয় কমতে পারে
ব্যবসায়ী মহলের মতে, আইআরসি ও ইআরসির বাধ্যবাধকতা তুলে দিলে শুধু উদ্যোক্তাদেরই সুবিধা হবে না, সরকারেরও প্রশাসনিক ব্যয় কমতে পারে।
এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, পৃথক সনদ ইস্যু ও নবায়নের জন্য যে প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনা করতে হয়, সেটির প্রয়োজনীয়তাও কমে আসবে।
তবে সনদ তুলে দেওয়া মানেই নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তুলে দেওয়া নয়। পণ্য নিষেধাজ্ঞা, নিরাপত্তা, রাজস্ব, মাননিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা এবং অন্যান্য আইনগত বিষয় কাস্টমস, কর ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে—এমন মত রয়েছে ব্যবসায়ী মহলে।
১৯৫০ সালের আইন পর্যালোচনায় সরকার
ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার ডিরেগুলেশনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
তিনি জানান, বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি কোন কোন ক্ষেত্রে নিয়মকানুন সহজ করা যায়, তা পর্যালোচনা করছে।
বাণিজ্য সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের আমদানি-রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইনও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে এই আইনের অধীনে বর্তমানে যেসব সনদ নেওয়া হয়, সেগুলোর কোনগুলো এখন আর প্রয়োজন নেই, তা খতিয়ে দেখা হবে। অপ্রয়োজনীয় বাধ্যবাধকতা থাকলে তা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, পর্যালোচনায় যদি দেখা যায় আইনটির আর প্রয়োজন নেই, তাহলে সরকার বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করবে। আর আইনটি রাখার প্রয়োজনীয়তা থাকলে বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেটি সংশোধন ও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সামনে সংস্কারের সুযোগ
বাংলাদেশের রপ্তানি ও আমদানি খাত এখন বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা, দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, ডিজিটাল ট্রেড ডকুমেন্টেশন এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা পরিবেশের ওপর ক্রমশ বেশি নির্ভরশীল। এমন বাস্তবতায় প্রায় আট দশক পুরোনো নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর কোন অংশ প্রয়োজনীয় আর কোন অংশ অপ্রয়োজনীয়—তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
আইআরসি ও ইআরসি পুরোপুরি বাতিল হবে কি না, নাকি বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও ডিজিটাল করা হবে—সেটি সরকারের চলমান পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করবে।
তবে ব্যবসায়ী মহলের বক্তব্য, একই তথ্য বারবার বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়ার পরিবর্তে একটি সমন্বিত বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করা গেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সময় ও খরচ উভয়ই কমানো সম্ভব।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিতে এখন মূল প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ কি ব্রিটিশ আমল থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পুরোনো বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকে আধুনিক, ডিজিটাল ও ব্যবসাবান্ধব ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে পারবে? চলমান ডিরেগুলেশন উদ্যোগের বাস্তব ফলাফলই এর উত্তর দেবে।

